যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। করাচির মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২-এ পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১২০ জনেরও বেশি। রোববার (১ মার্চ) সকাল থেকে করাচির মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে শত শত প্রতিবাদকারী—বেশিরভাগ শিয়া সম্প্রদায়ের—জড়ো হন। তারা দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন, জানালা ভাঙেন এবং কয়েকটি যানবাহন ও অংশবিশেষে আগুন ধরিয়ে দেন। নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস, গুলি ও বলপ্রয়োগ করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
সর্বশেষ আপডেট অনুসারে:
- এপি নিউজ ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করাচিসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে অন্তত ২২ জন নিহত এবং ১২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। করাচিতে নিহতের সংখ্যা ১০-এর কাছাকাছি।
- রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তানে মোট ২৩ জন নিহত—করাচিতে ১০, উত্তরের স্কার্দুতে ১১ (জাতিসংঘ অফিস পুড়িয়ে দেওয়া) এবং ইসলামাবাদে ২ জন।
- আল জাজিরা ও অন্যান্য সূত্রে করাচিতে ১০ জন নিহত ও ৭০+ আহতের খবর দিয়েছে।
- ডন নিউজের প্রতিবেদনে করাচিতে ১০ জন নিহত (সিভিল হাসপাতালে ৮টি মৃতদেহ ও ২ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান) বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবাদকারীরা “আমেরিকা মুর্দাবাদ”, “ইসরায়েল মুর্দাবাদ” স্লোগান দিয়ে কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হন। পুলিশ ও রেঞ্জার্স বাহিনী কনস্যুলেটের নিরাপত্তা জোরদার করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ খামেনির মৃত্যুকে “আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন” বলে নিন্দা করেছেন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাকিস্তানের অন্যান্য শহর লাহোর, মুলতান, ইসলামাবাদ ও উত্তরাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ থেকে সহিংস বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন দূতাবাস পাকিস্তানে আমেরিকান নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।






