ব্রাসেলস/ওয়াশিংটন, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ — ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত বছর স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্ত গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির জরুরি বৈঠকে নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে অধিকাংশ ইইউ পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের সিলিং ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয় এবং অনেক মার্কিন শিল্পজাত পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্য বা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করার ব্যবস্থা রাখা হয়। এটি ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক বাণিজ্য যুদ্ধ এড়ানোর লক্ষ্যে করা হয়েছিল।
স্থগিতের প্রধান কারণ
গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত কিছু বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে। ইইউ কর্তৃপক্ষের মতে, এই নতুন শুল্ক নীতি পূর্বের চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে। কারণ কিছু ইইউ পণ্যে (যেমন পনির, কৃষিজাত দ্রব্যসহ অন্যান্য) শুল্ক ১৫ শতাংশের সীমা অতিক্রম করতে পারে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান বার্নড ল্যাঞ্জ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে। চুক্তি মানেই চুক্তি—এই অবস্থান থেকে সরে আসা যাবে না।” তিনি জানান, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে স্পষ্টতা না পাওয়া পর্যন্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। ইইউ কমিশনও একই সুরে বলেছে যে, নতুন শুল্ক নীতির বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে।
ইইউ পার্লামেন্ট আগামী ৪ মার্চ আবার বৈঠকে বসবে। ততক্ষণ পর্যন্ত চুক্তির অনুমোদন প্রকিয়া স্থগিত থাকবে। যদি যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির প্রতি অঙ্গীকার নিশ্চিত না করে, তাহলে ইইউ পাল্টা শুল্ক আরোপসহ প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
এই ঘটনা ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্কে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশ্ব বাজারে শেয়ারের দাম কমেছে এবং বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে তিনি অন্যান্য দেশগুলোকে “টালবাহানা” না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত ইইউ-এর দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়।






