অনলাইন ডেস্ক
সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো। প্রিন্স উপাধি হারানো অ্যান্ড্রু ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই। বিবিসির লাইভ ব্লগে বলা হয়, এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজা তৃতীয় চার্লস। তিনি বলেছেন, তিনি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করছেন। তবে আইনকে তার নিজ গতিতে চলতে দেওয়া আবশ্যক। গ্রেপ্তারের আগে রাজা বা বাকিংহাম প্যালেসের আর অন্য কাউকে জানানো হয়নি। দ্য টেলিগ্রাফ লিখেছে, যুক্তরাজ্যের আধুনিক ইতিহাসে এমন গ্রেপ্তার নজিরবিহীন।
এক বিবৃতিতে টেমস ভ্যালি পুলিশ বলেছে, ‘সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে নরফোক থেকে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ তদন্তের আওতায় বার্কশায়ার ও নরফোকের বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।’ বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি নির্দেশনা মেনে পুলিশ গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি। যেহেতু মামলাটি এখন চলছে, তাই আদালত অবমাননা এড়াতে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে উইন্ডসর শহরে অবস্থিত রয়্যাল লজ ছেড়ে নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে চলে যান। ওই সময় বাকিংহাম প্যালেস বলেছিল, ২০২৬ সালের শুরুতে অ্যান্ড্রুকে রয়্যাল লজ ছাড়তে হবে। তবে প্রয়াত এপস্টেইন সম্পর্কিত সর্বশেষ নথি প্রকাশের পর অ্যান্ড্রুর বাড়ি ছাড়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত অক্টোবরে ছোট ভাই অ্যান্ড্রুর প্রিন্স উপাধি ও সম্মাননা বাতিল করেন রাজা তৃতীয় চার্লস।