1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব: জামায়াত আমির জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদনে সতর্ক থাকার আহ্বান মার্কিন দূতাবাসের কারাবন্দিদের জন্য ভিডিওকলের সুবিধা, স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ বাল্যবিবাহ নির্মূলে ২৭ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণা করল জাতিসংঘ গাজার ধ্বংসস্তূপে মিলল একই পরিবারের ৫৫ সদস্যের মরদেহ বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধানে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নতুন লুকে সিয়াম, ‘আন্ধার’ সিনেমার টিজার প্রকাশের পর শুরু আলোচনা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত,তেরখাদা নতুন বাসস্ট্যান্ড চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় মনোহরদীতে,অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করল প্রশাসন। 

লিবিয়ার স্বর্ণযুগ, এক করুণ ট্র্যাজেডি এবং গাদ্দাফির ভবিষ্যৎবাণী: ইতিহাসের পাতায় একটি রক্তাক্ত অধ্যায়

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ১১২ সময় দর্শন
মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

২০০৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৬৪তম অধিবেশন চলছে। বক্তৃতামঞ্চে উঠলেন লিবিয়ার তৎকালীন দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফি। নির্ধারিত ১৫ মিনিটের পরিবর্তে তিনি টানা দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এক জ্বালাময়ী ভাষণ দেন, যা বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল।

জাতিসংঘের সনদ ও গাদ্দাফির হুঙ্কার

সেদিন গাদ্দাফি বিশ্বনেতাদের চোখের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, “জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্বে ৬৫টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এই যুদ্ধগুলো আটকাতে জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছে, কারণ এগুলোর সবকটিই ছিল একটি নির্দিষ্ট দেশের (যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের) স্বার্থে।” তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে ‘সন্ত্রাস পরিষদ’ বলেও আখ্যায়িত করেন। ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি বিশ্বনেতাদের সামনেই জাতিসংঘের সনদের অনুলিপি ছিঁড়ে ফেলেন এবং ছুড়ে মারেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, পশ্চিমাদের এই আগ্রাসন একদিন নিজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে গোটা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।

লিবিয়া: মরুভূমির বুকে এক টুকরো স্বর্গ

গাদ্দাফির শাসনামলে লিবিয়া ছিল আফ্রিকার অন্যতম সমৃদ্ধশালী দেশ। সমালোচকরা তাকে স্বৈরাচারী বললেও, লিবিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। বিনামূল্যে সুবিধা: লিবিয়ায় বিদ্যুৎ ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। চিকিৎসার জন্য লিবিয়ার নাগরিকদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হতো না; বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রাষ্ট্র তা বহন করত। আবাসন ও কৃষি: নবদম্পতিদের বাড়ি কেনার জন্য প্রায় ৫০ হাজার ডলার অনুদান দেওয়া হতো। কেউ কৃষিকাজ করতে চাইলে তাকে বিনামূল্যে জমি, বীজ ও পশুসম্পদ দেওয়া হতো। শিক্ষাব্যবস্থা: শিক্ষা ছিল সম্পূর্ণ অবৈতনিক। সাক্ষরতার হার ২৫% থেকে বেড়ে ৮৭%-এ উন্নীত হয়েছিল। গ্রেট ম্যান-মেড রিভার: মরুভূমির বুকে বিশ্বের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তৈরি করে তিনি সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছিলেন। গাদ্দাফি চেয়েছিলেন আফ্রিকান দেশগুলোর জন্য ‘গোল্ড দিনার’ চালু করতে, যাতে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমে। এই উদ্যোগই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

২০১১ সালের ট্র্যাজেডি ও পশ্চিমাদের উল্লাস

২০১১ সালে তথাকথিত ‘আরব বসন্তের’ ঢেউ এবং পশ্চিমা প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে লিবিয়ার একাংশ গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। ন্যাটো বাহিনী আকাশপথে হামলা শুরু করে। যে তরুণদের জন্য তিনি সমৃদ্ধ লিবিয়া গড়েছিলেন, পশ্চিমাদের প্ররোচনায় তারাই তার বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়।

২০১১ সালের ২০ অক্টোবর সিরতে শহরে ন্যাটো ও বিদ্রোহী বাহিনীর আক্রমণের মুখে গাদ্দাফি একটি ড্রেনেজ পাইপের ভেতর আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই তাকে টেনে বের করে আনা হয়। ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন। যে জনতা একসময় তার নামে স্লোগান দিত, তারাই তাকে মব করে পিটিয়ে, বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে এবং সবশেষে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে।

গাদ্দাফির মৃত্যুর খবর যখন ওয়াশিংটনে পৌঁছায়, তখন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন একটি টিভি সাক্ষাৎকারে ছিলেন। খবরটি শুনে তিনি হাসতে হাসতে বলেছিলেন, “উই কেম, উই স, হি ডায়েড” (আমরা এলাম, আমরা দেখলাম, সে মারা গেল)।

আপনার উল্লেখ্যমতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বন্ধু হিসেবে পরিচিত হিলারি ক্লিনটনের সেই উল্লাস আজও বিশ্ববিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। লিবিয়াকে ‘মুক্ত’ করার নামে যে আগ্রাসন চালানো হয়েছিল, তার ফলাফল হিসেবে লিবিয়া আজ বহুধা বিভক্ত, যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং চরম অরাজকতার এক জনপদ।

মৃত্যুর আগে গাদ্দাফি বলেছিলেন, “তোমরা আমাকে হত্যা করলে লিবিয়া আগুনের কুন্ডলীতে পরিণত হবে, ইউরোপে শরণার্থীর ঢল নামবে।” আজ এক দশকেরও বেশি সময় পর লিবিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া হাজারো শরণার্থীর লাশ প্রমাণ করে—গাদ্দাফির সেই সতর্কবাণী কতটা সত্য ছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host