অনলাইন ডেস্ক
মাদক পাচারকারী নৌকাগুলোতে একাধিক নতুন হামলায় আটজন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে। এর ফলে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অভিযানে মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ১১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় কর্মরত আমেরিকান বাহিনীর দায়িত্বে থাকা মার্কিন দক্ষিণ কমান্ড মঙ্গলবার এবং বুধবার দুটি হামলার ঘোষণা দিয়েছে।
এক্স-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় তিনটি সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
এতে আরো বলা হয়েছে, ‘প্রথম হামলায় নৌকায় থাকা তিন ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছিল। বাকি ‘মাদক-সন্ত্রাসীরা’ অন্য দুটি নৌকা থেকে লাফিয়ে পড়ে। নৌকাগুলো ডুবে যায়।’
এক্স-এ পোস্ট করা বিবৃতির সঙ্গে একটি ভিডিও ছিল যেখানে, নৌকাগুলো ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শিকার হতে দেখা যাচ্ছে।
হামলার সঠিক অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। এর আগে ক্যারিবীয় বা পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে হামলা চালানো হয়েছিল।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কোস্টগার্ডকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার ব্যবস্থা সক্রিয় করার জন্য অবহিত করেছে। অন্য নৌকাগুলোতে থাকা আরোহীদের ভাগ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি।
এর কয়েক ঘন্টা পরে তারা বুধবার পরিচালিত আরো দুটি নৌকায় হামলার বিষয়ে দ্বিতীয় বিবৃতি জারি করে। যেখানে পাঁচজন নিহত হয়। তবে হামলাগুলো কোথায় ঘটেছে তা স্পষ্ট নয়।
গত সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ৩০ টিরও বেশি সন্দেহভাজন নৌকাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তবে লক্ষ্যবস্তু করা নৌকাগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সরবরাহ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং অধিকার গোষ্ঠীগুলি বলছে, হামলাগুলো সম্ভবত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমান, কারণ তারা স্পষ্টতই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি নয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বামপন্থী রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, তিনি একটি মাদক গোষ্ঠী পরিচালনা করেছেন। তবে মাদুরো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ল্যাটিন আমেরিকার দেশটির বিশাল তেলের মজুদে প্রবেশাধিকার পেতে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।
সূত্র : রয়টাস