স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
তীব্র গরম আর আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় চট্টগ্রামে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের রোগ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে গত ২০ দিনে নিউমোনিয়া ও হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের মধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে বর্তমানে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩০০-এর বেশি শিশু ভর্তি ছিল, যার মধ্যে অন্তত ১০০ জনই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।
ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় একই শয্যায় ২-৩ জন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মুমূর্ষু শিশুদের মেঝেতে রেখেই চলছে জীবন বাঁচানোর লড়াই।
হামের জন্য নির্ধারিত ১৬টি শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছে ৫০টিরও বেশি শিশু।
মারা যাওয়া শিশুদের শরীরে হামের মতো ফুসকুড়ি বা র্যাশ থাকলেও ল্যাব পরীক্ষায় সবার হাম শনাক্ত হয়নি।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের লক্ষণ থাকলে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় থাকা ১৩ শিশুকে বর্তমানে পিআইসিইউতে (শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) রাখা হয়েছে।
শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ মুছা মিঞা বলেন, “বছরের এই সময়ে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও ধুলোবালির কারণে নিউমোনিয়া বাড়ে। যারা মারা গেছে তাদের শরীরে র্যাশ ছিল। স্থান সংকুলান না হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে মেঝেতেও চিকিৎসা দিচ্ছি।”
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে গত এক মাসে ৫৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হলো ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির আক্রান্ত হওয়া। চিকিৎসকদের মতে, শৈশবে টিকা না নিলে যেকোনো বয়সেই এই ঝুঁকি থেকে যায়।
বর্তমানে হামে আক্রান্ত মোট শনাক্ত ৫৩ জন। নতুন ভর্তি (২৪ ঘণ্টায়) ৩১ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৪৭ জন (গত এক মাসে)। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা, ৭ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা।
চট্টগ্রামের জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৫টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে। শিশুদের নিয়মিত হাত ধোয়া, প্রচুর পানি পান করানো এবং ধুলোবালি থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সামান্য জ্বর বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।






