স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
রাজধানীর অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চিকিৎসকদের মোবাইল ফোনের আলোই হয়ে উঠেছে রোগী দেখার প্রধান ভরসা। সোমবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ড, বিশেষ করে হাম আক্রান্ত শিশুদের ৪২১ নম্বর ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ওয়ার্ড ও করিডোরজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার। এতে চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করে রোগীদের পরীক্ষা, ড্রেসিং এবং প্রয়োজনীয় নোট লিখছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে রোগীদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীরা শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। অনেক স্বজন হাতপাখা দিয়ে রোগীদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। হাসপাতালে হামের চিকিৎসাধীন এক শিশুর বাবা রবিউল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় লিফটে দুইবার আটকে পড়েছেন তিনি। তার অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চিকিৎসার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের ট্যাক্সের টাকায় সরকার চলে। সরকারের উচিত ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে জেনারেটরের ব্যবস্থা করা।
ময়মনসিংহ থেকে আসা মো. সুমন জানান, তার তিন বছরের কন্যা বাবলি হামে আক্রান্ত। বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তিনি পরিবার নিয়ে বারান্দায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা আরেক অভিভাবক মইনুদ্দিন বলেন, কয়েকদিন পরিস্থিতি সহনীয় থাকলেও আজ ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে তার সন্তানের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে এবং কার্যকর জেনারেটর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
এ বিষয়ে শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ইদ্রিস-উল সিদ্দিকী মেহেদী বলেন, এমন পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে চিকিৎসকরা মোবাইলের আলোয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।







