জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের ডিজেল সরবরাহের জন্য সরকার ফুয়েল কার্ড বিতরণ করলেও অধিকাংশ কৃষক এখনো কার্ড পায়নি। ফলে সরকারি সুফল পাচ্ছে না প্রায় ৫ হাজার সেচপাম্পের মালিক। এই উপজেলার ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের কৃষক ৭ হাজার হলেও ফুয়েল কার্ড পেয়েছে মাত্র ২ হাজার কৃষক। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান। ফলে ডিজেল না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক। ভরা ইরি-বোরো মৌসুমে সেচসংকটে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা।
জানা গেছে, এবার মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ডিজেলচালিত অগভীর নলকূপ বা সেচযন্ত্রের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হয়। এসব সেচযন্ত্র চালাতে প্রতিদিন কয়েক লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। ফুয়েল কার্ড প্রাপ্তির পরও কৃষকদের ভোগান্তি কমেনি; বরং দূরদূরান্তের কৃষকরা উপজেলা সদরে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ডিজেল সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর বাইরে প্রায় ৫ হাজার নিবন্ধিত কৃষক এখনো ফুয়েল কার্ড পাননি। ফলে তারা ফসল বাঁচাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলার কামারিয়া চরের কৃষক হবিবরসহ একাধিক কৃষক বলেন, “এবার ইরি ধান লাগিয়ে ভুল করেছি। ধানের যখন পানির প্রয়োজন, তখন হঠাৎ বাজারে ডিজেল নেই। খোলা বাজারে ডিজেল বিক্রি বন্ধ করায় আমরা বিপাকে পড়েছি। বাজারে ঘুরেও ডিজেল পাওয়া যায় না।”
মাদারগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক মাহবুব, এরশাদ হোসেনসহ অনেকে জানান, “এবার ইরি-বোরো মৌসুমে চরম ডিজেল সংকটে আমরা বিপাকে পড়েছি। কোথাও এক লিটার ডিজেলও পাওয়া যায় না। সরকারিভাবে তেল পাওয়ার জন্য ফুয়েল কার্ড পেতে নানা ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। তা ছাড়া উপজেলা সদরে গিয়ে ডিজেল সংগ্রহ করাও অনেক কঠিন। বৈশাখের কাঠফাটা রোদে আমাদের ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এবার ফলন কমে যাবে।”
এদিকে মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, “বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত ৭ হাজার সেচপাম্পের মধ্যে ২ হাজার কৃষককে ফুয়েল কার্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা পাম্পে উপস্থিত হয়ে কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ করছি। আজ মোটামুটি যারা এসেছেন, সবাই তেল পেয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ায় সেচের প্রয়োজন কিছুটা কমছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই না হলে ইনশাল্লাহ ফলনে সমস্যা হবে না।” উপজেলা সদরের দুটি ফিলিং স্টেশনে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। শত শত কৃষক সকাল থেকেই ভিড় করছেন। তারা কাঙ্ক্ষিত তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন গত ৯ এপ্রিল কৃষকদের জন্য ফুয়েল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করলেও গত ১৫ দিনে ৭ হাজার সেচপাম্পের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২ হাজার কৃষকের মধ্যে ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।