স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
দেশের পোল্ট্রি খাত করোনার ধাক্কা ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একযোগে নানা সংকটে এই শিল্প আবারও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের সংকট, দীর্ঘ লোডশেডিং, আমদানিনির্ভর কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, রোগবালাই, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর-শুল্কের চাপ মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে বাজারে পড়েছে। ডিম ও মুরগির দাম দ্রুত বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, পোল্ট্রি খামারের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে খামারিরা জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, যা জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এতে ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে না পারায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং বাচ্চার মানও খারাপ হচ্ছে। নানামুখি সংকটের কারণে চোখে অন্ধকার দেখছেন পোল্ট্রি খামারিরা।
এদিকে পোল্ট্রি খাদ্যের দামও লাগামহীনভাবে বাড়ছে। উৎপাদন খরচের প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশই খাদ্যে ব্যয় হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম বাড়ায় ফিডের খরচ বেড়েছে। গত কয়েক বছরে উৎপাদন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রতিফলিত হচ্ছে।
বাজারে ডিম ও মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। এক মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সারাদেশেই এই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন এসেছে।
মুরগির দামও অনেক বেড়েছে, বিশেষ করে দেশি মুরগির দাম গরুর মাংসের সমান হয়ে গেছে। খামারিদের দাবি, তারা কম দামে বিক্রি করলেও খুচরা বাজারে দাম বেশি রাখা হচ্ছে, যা বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, রোগবালাইও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলেরা, রানীক্ষেত ও বার্ড ফ্লুর কারণে অনেক খামারে মুরগি মারা গেছে। এতে উৎপাদন কমে গেছে এবং অনেক খামারি নতুন করে বিনিয়োগে অনীহা দেখাচ্ছেন।
কর ও শুল্ক বৃদ্ধিও সংকটকে আরও তীব্র করেছে বলে মনে করেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। পোল্ট্রি খাতে করপোরেট কর বাড়ানোসহ বিভিন্ন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তারা মনে করছেন, এই খাত টিকিয়ে রাখতে হলে খাদ্য ও কাঁচামালের ওপর কর কমানো এবং সরকারি প্রণোদনা বাড়ানো জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পোল্ট্রি শিল্পে বড় ধরনের ধস নামতে পারে, যা দেশের পুষ্টি নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
বিপিআইয়ের মহাসচিব মো. সাফির রহমান বলেন, আগামী বাজেটে সুবিধা না দিলে এখাতে নতুন বিনিয়োগ করবেনা কেউ। উদ্যত্তারা অন্যখাতে চলে যেতে পারেন। ডিম ও মুরগির দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।






