1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন

কীভাবে বুঝবেন সন্তানের হাম হয়েছে, জেনে নিন চিকিৎসকের পরামর্শ

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৪ সময় দর্শন
স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক

হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যার প্রধান লক্ষণ হলো— তীব্র জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত),  সর্দি-কাশি, লাল ও পানিপূর্ণ চোখ এবং শরীরজুড়ে লালচে ফুসকুড়ি বা দানা দেখা দেবে। সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ১০-১৪ দিন পর লক্ষণ দেখা দেয়, যা প্রথমে মুখ ও কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ৩-৭ দিন স্থায়ী হয়।

সম্প্রতি অভিভাবকরা শিশুর জ্বর ও শরীরে র্যাশ নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং হাসপাতালে ভিড় করছেন। এসব শিশুর অনেকেরই হাম শনাক্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের অনেক জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, বেশ কিছু শিশুমৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকসহ শিশুচিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনসহ সবাই উদ্বিগ্ন। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জানা থাকা উচিত— হাম কী, কেন ও কীভাবে ছড়ায় এবং শিশুর হাম হলে কী করা উচিত।

এ বিষয়ে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা বলেছেন, হাম মূলত ‘মিজেলস’ নামে এক অতিসংক্রামক ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগ। উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়া, রক্তবর্ণের চোখ এবং জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র্যাশ নিয়ে হাম আবির্ভূত হয়।

তিনি বলেন, মিজেলস ভাইরাসটি শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে নষ্ট করে দেয়। ফলে হামে আক্রান্ত হলে শিশু এর বাইরেও নানা রকম ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু দ্বারা সহজে সংক্রমিত হয়। এ ছাড়া আক্রান্ত শিশুর শরীরে ভিটামিন ‘এ’–এর মজুদ মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে শিশুর চোখের পানি কমে যায় বা চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। এ থেকে রাতকানা থেকে শুরু করে অন্ধত্ব পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।

এ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, হাম খুবই ছোঁয়াচে। হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে মুহূর্তেই হামের ভাইরাস আক্রান্ত শিশুর কাছ থেকে আশপাশে থাকা অনেক সুস্থ শিশুকে আক্রান্ত করতে পারে। এর ফলে এটি এলাকাজুড়ে ছড়াতে পারে। যদি শ্বাসকষ্ট, তীব্র ডায়রিয়া, অনবরত বমি, কানে ব্যথা অথবা চোখ বা মস্তিষ্কে কোনো জটিলতা দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো শিশুর জ্বর এবং শরীরে র্যাশ দেখা দিলে তা হাম হোক বা না হোক, চিকিৎসককে দেখাতে হবে। আর শিশুর শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত পাঁচ দিন অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে।

এ সময় আক্রান্ত শিশুর খাবার, পানীয় এবং অন্যান্য স্বাভাবিক পরিচর্যা অব্যাহত রাখতে হবে। হামে আক্রান্ত শিশুর যদি কোনো বিপদচিহ্ন, যেমন শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, খিঁচুনি বা নিস্তেজ হয়ে পড়া, চোখের মণি ঘোলা হয়ে আসে বা মুখের ভেতর গভীর ঘা থাকে, তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে। সেখানে শিশুকে আলাদা ওয়ার্ডে বা কেবিনে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, হামের প্রধান লক্ষণ কী কী—

উচ্চ জ্বর: হঠাৎ তীব্র জ্বর আসা, যা সাধারণত ১০৩°-১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।

সর্দি ও কাশি: নাক দিয়ে পানি পড়া, শুকনো কাশি এবং গলাব্যথা।

চোখ লাল হওয়া: চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং আলোতে অস্বস্তি (কনজাংটিভাইটিস)। কোপলিক স্পট: রেশ বা ফুসকুড়ি ওঠার ২-৩ দিন আগে মুখের ভেতরের গালে ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা দেয়।

লালচে ফুসকুড়ি: সাধারণত ৩-৪ দিন পর শরীরজুড়ে লালচে, চ্যাপ্টা বা সামান্য উঁচু দানা দেখা দেয়, যা কান ও মুখের পেছন থেকে শুরু হয়ে হাত-পা ও সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যান্য লক্ষণ: শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা বা তীব্র ব্যথা, ক্ষুধামন্দা ও ক্লান্তি দেখা দেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host