পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ সার্ভিসেস ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. মনজুর আহমেদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “গত দুই বছরে কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পণ্য কেনা হয়নি এবং কোনো বড় বরাদ্দও পাওয়া যায়নি।” ফলে দেশের অধিকাংশ উপজেলায় ওরাল পিল, কনডম, ইমপ্লান্ট, আইইউডি, ইনজেকশনসহ বিভিন্ন গর্ভনিরোধক সামগ্রীর মজুত প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট পোর্টালে (এসসিএমপি) এসব উপকরণের স্থানে ‘লাল চিহ্ন’ দেখা যাচ্ছে, যা সংকটের তীব্রতা নির্দেশ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
এই সংকট দীর্ঘমেয়াদে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, মাতৃমৃত্যু ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াবে। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ তারা সরকারি বিনামূল্যের জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবার ওপর সরাসরি নির্ভরশীল।
অথচ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। এত বিপুল অর্থ বরাদ্দের পরও জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মতো মৌলিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে কেন কোনো বরাদ্দ বা ক্রয় হয়নি— এ প্রশ্ন উঠেছে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে।
স্বাস্থ্যখাতের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও বিশেষজ্ঞ মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। অনেকে মনে করেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অমনোযোগ, সমন্বয়ের অভাব এবং অগ্রাধিকারের ঘাটতিই এই সংকটের মূল কারণ।
ডা. মনজুর আহমেদের মতো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি এমন জটিল আকার ধারণ করেছে। ফলে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা জনগণকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।






