বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী (ফ্রেন্ডশিপ) পাইপলাইন দিয়ে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে পৌঁছেছে। এটি চলতি এপ্রিল মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে তৃতীয় দফার সরবরাহ।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিপোতে এই ডিজেল গ্রহণ করা হয়েছে। পাম্পিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আগের দিন রাতে এবং সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সরবরাহ জ্বালানি মজুত স্বাভাবিক রাখতে এবং সেচসহ অন্যান্য প্রয়োজনে ডিজেলের ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়তা করবে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটে। জাহাজ চলাচলের রুট পরিবর্তন, বীমা খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশ ডিজেল সংকটের মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ভারত থেকে পাইপলাইন সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে, যা সমুদ্রপথের তুলনায় দ্রুত ও সাশ্রয়ী।
মার্চ-এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মৈত্রী পাইপলাইন দিয়ে সরবরাহের সারাংশ:
- মার্চ ২০২৬: প্রায় ১৫,০০০ থেকে ১৭,০০০ টন ডিজেল সরবরাহ হয়েছে (কয়েক দফায় ৫,০০০ টন করে)।
- এপ্রিল ২০২৬: এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫,০০০ টন পরিকল্পনা অনুসারে সরবরাহ চলছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৫,০০০ + ৫,০০০ টন এসেছে এবং সর্বশেষ ৭,০০০ টন যোগ হয়েছে। মাসের শেষে আরও কিছু সরবরাহ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাইপলাইন দিয়ে প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টন ডিজেল এসেছে বলে বিপিসি সূত্র জানিয়েছে।
সাধারণ সময়ে এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে প্রায় ১,০০,০০০ থেকে ১,৮০,০০০ টন ডিজেল সরবরাহের চুক্তি রয়েছে (বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে)। ইরান যুদ্ধের কারণে মার্চ-এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত চাপ পড়েছে এবং ভারত বাংলাদেশের অনুরোধে দ্রুত সরবরাহ বাড়িয়েছে। এপ্রিল মাসে একাই ২৫,০০০ টন পর্যন্ত আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ডিজেলের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি হয়। সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সেচ পাম্প, পরিবহন ও শিল্পে সমস্যা দেখা দেয়। মৈত্রী পাইপলাইন (১৩১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ) আসামের নুমালিগড় থেকে সরাসরি পার্বতীপুর ডিপোতে ডিজেল পৌঁছে দেয়, যা উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিপিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার জ্বালানি মজুত স্বাভাবিক রাখতে ভারতের পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকেও আমদানি বাড়াচ্ছে। তবে পাইপলাইন সরবরাহ সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত।






