মাফিকুল ইসলাম, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নে জমি দখলকে কেন্দ্র করে আদিবাসী পল্লীতে হামলা, ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙচুর, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং এক যুবককে তীরবিদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে ঘোড়াবান্দ গ্রামের কাদেরের ছেলে রেজাউল ও আজগর সাহাজীর ছেলে আজাদের নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল সনকা খ্রিষ্টান পাড়া ও সংলগ্ন আদিবাসী এলাকায় প্রবেশ করে হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে শ্মশান কালী মন্দিরে হামলা চালিয়ে কালী মূর্তি ভেঙে পার্শ্ববর্তী ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে দেয়। পরে তারা পিউস মুরমুর (৪৫) বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বলে জানা গেছে।
এ সময় কবরস্থানের গাছ কাটা ও জমি দখলের প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, গনেশ সরেনের ছেলে বিশ্বনাথ ওরফে ভোন্দা (৩০)-এর বুকে তীর নিক্ষেপ করা হয়। তিনি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে বিশ্বনাথের অবস্থা গুরুতর।
ঘটনার খবর পেয়ে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বীরগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।