কমবেশি আমরা সবাই সেফটিপিনের সঙ্গে পরিচিত। কখনো না কখনো এই ছোট্ট জিনিসটি আমাদের খুবই উপকারে আসে। বস্তুটি ছোট কিন্তু খুবই প্রয়োজনীয়। বিশেষত নারীদের ফ্যাশনের ক্ষেত্রে তো অপরিহার্য। জামার সঙ্গে উড়ুক্কু ওড়না কিংবা ব্লাউজের সঙ্গে শাড়ির আঁচল আটকে রাখতে সেফটিপিনের ব্যবহার বহু পুরোনো। যেহেতু পৃথিবীতে অনেক দিবস আছে। তাই সেফটিপিনের জন্য একটি থাকলে মন্দ কী? আজ ১০ এপ্রিল সেফটিপিন দিবস।
সেফটিপিন ছোট্ট হলেও যথেষ্ট ধারালো ও তীক্ষ্ণ, তাই পোশাকে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ। বর্তমানে পোশাক আটকে রাখতেই সেফটিপিনের বহুল ব্যবহার দেখা যায়। বলা যায়, সেফটিপিন এখন ফ্যাশনের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।
সেফটিপিন আবিষ্কারের গল্পটাও বেশ মজার। ১৮৪৯ সালে উদ্ভাবিত হয় সেফটিপিন। যুক্তরাষ্ট্রের যন্ত্রকৌশলী ওয়াল্টার হান্ট তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকে ১৫ ডলার ধার করেছিলেন। কিছুতেই সে ধার শোধ দিতে পারছিলেন না। ভাবছিলেন, এমন কিছু একটা তৈরি করা যায় কি না, যার উপার্জিত অর্থ দিয়ে ধারটা শোধ করা যায়। ভাবতে ভাবতে লম্বা তারের টুকরা বেঁকিয়ে দিলেন সেফটিপিনের আকার। মাথার দিকটায় লাগিয়ে দিলেন একটা খাপ, যাতে গায়ে ফুটে না যায়। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল সেফটিপিন। ১৮৪৯ সালের ১০ এপ্রিল রীতিমতো পেটেন্ট করিয়ে নিলেন। সেই পেটেন্ট বিক্রি করে পেলেন ৪০০ ডলার। ধার শোধ তো হলোই, দিনে দিনে লাখ লাখ ডলারের মালিক হয়ে উঠলেন।
যদিও ওয়াল্টার হান্ট যুক্তরাষ্ট্রে সেফটিপিনের পেটেন্ট বানানো প্রথম ব্যক্তি। তবে, ইতিহাসবিদরা বলছেন, এই ধারণাটি আরও অনেক পুরনো, সম্ভবত শত শত বছর আগের। ধারণা করা হয়, গ্রিস ও রোমের মানুষ হাড়, হাতির দাঁত বা ধাতুর মতো বিভিন্ন উপকরণ থেকে তৈরি অনুরূপ কিছু বানিয়েছিলন। সেফটিপিনের অনুরূপ কিছু ইংল্যান্ডেও পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হয়। যাকে বলা হয় ‘ইংলিশ পিন’।
যা হোক, সেফটিপিনের আধুনিক আবিষ্কারের কৃতিত্ব হান্টকে দেওয়া হয়। আর সেফটিপিনের পেটেন্ট করার তারিখ ছিল ১০ এপ্রিল। এ কারণে প্রতি বছর এ দিন সেফটিপিন দিবস উদযাপিত হয়।