খুলনার তেরখাদা প্রতিনিধি :
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তীব্র ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। সেচের জন্য ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীল কৃষকেরা পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এতে বোরো ধানের ক্ষেত নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে উপজেলার হাজার হাজার কৃষকের।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বোরো ধানের জমিতে এ সময় নিয়মিত সেচ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কয়েকদিন ধরে বাজারের বেশিরভাগ দোকানেই ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের তুলনায় তারা অনেক কম পরিমাণে ডিজেল পাচ্ছেন।
ফলে অনেক কৃষক প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। আবার কোথাও কোথাও ডিজেল মিললেও তা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, কয়েকদিন আগেও যে ডিজেলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ১০৫ টাকা, বর্তমানে সংকটের সুযোগ নিয়ে সেই ডিজেল ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে।
উপজেলার পানতিতা এলাকার কৃষক রুয়েল মোল্লা বলেন, “বোরো ধানের জমিতে নিয়মিত সেচ না দিতে পারলে চারা দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।এতে ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনছেন, এতে উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।”
ইখড়ি এলাকার কৃষক বাদশা শেখ বলেন, “বোরো ধান আমাদের প্রধান ফসল। এই সময়ে সেচ বন্ধ হয়ে গেলে পুরো ফসলই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কিন্তু ডিজেল সংকটের কারণে ঠিকমতো পাম্প চালাতে পারছি না। দ্রুত এ সংকট সমাধান না হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে তেরখাদা উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার ৫২৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এ বিশাল আবাদ রক্ষায় সেচ কার্যক্রম সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিউলি মজুমদার বলেন, “ডিজেল সংকটে কৃষকদের কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে।
বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় এসিল্যান্ড দায়িত্বে আছেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। কৃষকদের বোরো আবাদ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি।”
এদিকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক করে সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন উপজেলার কৃষকরা।