স্থানীয় সংবাদদাতা
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ জামায়াত নেতা মাওলানা রঞ্জু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে, শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ। ছাত্রীকে উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার কথা বলে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিও মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখেন জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া। গ্রেপ্তার রঞ্জু মিয়া উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পন্ডিতপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তিনি জামায়াতে ইসলামির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাদ্রাসায় ছাত্রীদের ভয় ভীতি দেখিয়ে ও ভিডিও ধারণ করে তিনি নিয়মিত তাদের ধর্ষণ করতেন বলে অভিযোগ আছে।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষিত ছাত্রী চার মাস আগে মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ভর্তির পর থেকেই অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার অজুহাতে তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং সরকারি উপবৃত্তি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করে। গত বছরের ১৮ই ডিসেম্বর সকালে উপবৃত্তি ফরমে স্বাক্ষরের অজুহাতে অধ্যক্ষ ওই ছাত্রীকে তার পান্থাপাড়ার বাসায় ডেকে নেন। তখন বাসায় কেউ ছিলনা। এই সুযোগে ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে এবং কৌশলে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে রাখেন রঞ্জু। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে আবারও ধর্ষণ করেন জামায়াত নেতা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রী গত শুক্রবার রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়াকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। তার মোবাইল উদ্ধার করে ওই ভিডিও জব্দ করে পুলিশ।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, ধর্ষিত ছাত্রীর মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং গ্রেপ্তার শিক্ষক রঞ্জুকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি ওই ছাত্রীকে উপবৃত্তি পাইয়ে দেবার নামে প্রথমে বাসায় নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ভিডিও মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে আবারও ধর্ষণ করেন।