গত ২৫ দিনে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, ককটেল ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মাদারীপুর শহরে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আধিপত্য বিস্তার, পুরোনো বিরোধ ও সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মাসজুড়ে চলা সহিংসতায় শহরটি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময়ে অন্তত চার শতাধিক বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের ধীরগতির কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩০শে জানুয়ারি রাতে সবুজবাগ ও বটতলা এলাকার কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে সহিংসতার সূচনা হয়। সে সময় দোকানপাট ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রায় ৮০টি হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করতে হয়। পরবর্তীতে ১৩ই ফেব্রুয়ারি শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ২১শে ফেব্রুয়ারি রাতেও সদর থানার সামনে হরিকুমারিয়া এলাকার কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে নতুন মাদারীপুর এলাকায়, যেখানে দেড় শতাধিক বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। একই দিন সন্ধ্যায় সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানের বাড়ির সামনে মাদারীপুর-শরিয়তপুর মহাসড়কে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বোমা নিক্ষেপ হয়।
সর্বশেষ ২৪শে ফেব্রুয়ারি ইফতারের সময় চরমুগরিয়া এলাকায় সাবেক মেম্বার জসিম মোল্লা ও পান্নু ব্যাপারীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে সোনালী পরিবহনের এক চালক ও তার স্ত্রীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিসি ব্রিজ, কলেজ রোড ও পূর্ব আমিরাবাদ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অর্ধশতাধিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাগুলোর ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতীত সহিংস ঘটনার সঙ্গে তুলনা করছেন। মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ। স্থানীয় ব্যবসায়ী ফরিদ শেখ বলেন, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে দোকান খুলতে হচ্ছে। কখন কোথায় বোমা পড়ে তার নিশ্চয়তা নেই। দ্রুত কিশোর গ্যাং দমন না হলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এলাকার বাসিন্দারা জানান, নিয়মিত সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকেই সন্তানের স্কুল ও মক্তবে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগে আছেন। দ্রুত স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা। মাদারীপুর সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আধিপত্য বিস্তার ও কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।






