‘তোর ভাইকে যেমন ১০ হাজার মানুষের মাঝখানে মেরেছি। ৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও আমি ইমন তোর ঘরে ঢুকবো। তোর অস্তিত্ব রাখবো না। তোকে মেরে ফেলবো।’
চট্টগ্রামে এভাবেই আজিজ উদ্দিন নামে এক বিএনপি নেতার মোবাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে হুমকির অডিও। হুমকি পাওয়া আজিজ উদ্দিন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও) আসনে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণায় গত বছরের ৫ নভেম্বর গুলিতে নিহত সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলার ছোট ভাই। গত রবিবার তার হোয়াটসঅ্যাপে হুমকির এই অডিও পাঠানো হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। আজিজের দাবি, হুমকি দেওয়া ব্যক্তি চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ওরফে ইমন। মোবারক চট্টগ্রামের আলোচিত ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের ডান হাত হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রামে খুন, চাঁদাবাজি ও প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজির ঘটনায় ঘুরেফিরে তার নাম আসছে। কিন্তু তাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের। অডিওতে শুরুতেই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অশ্লীলভাবে আজিজকে গালাগাল করতে শোনা যায়। আজিজের উদ্দেশে বলা হয়, ‘কয় দিন ঘরে বসে থাকবি, প্রশাসন কয় দিন পাহারা দেবে। প্রশাসন থেকেই–বা কী হবে, তোর ভাইকে ১০ হাজার মানুষের মধ্যে মেরেছি। ৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও ঘরে গিয়ে তোকে মেরে ফেলবো। তোকে মারতে আমি যাবো। তোর ভাইকে মানুষ দিয়ে মাথায় গুলি করে মেরেছি। তোর অস্তিত্ব রাখবো না। তোকে মারার জন্য আমি যাবো, মনে রাখিস। তোকে গুলি করে পুরো শরীর বোলতার বাসা বানিয়ে ফেলবো। তোকে মারলে কী হবে। একটি খুন করলে যে সাজা, ১০টি খুন করলেও সেই সাজা।’
এ বিষয়ে আজিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাই সরোয়ার হোসেনকে গুলি করে হত্যার পর থেকেই সন্ত্রাসীরা আমাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। সর্বশেষ হুমকির পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে মৌখিকভাবে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি এবং চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কমিশনারকে জানিয়েছি।’
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হুমকির বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। সন্ত্রাসী মোবারককে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। সে বিদেশি নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে হুমকিসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। আমরা তার অবস্থান জানার চেষ্টা করছি।’
কে এই মোবারক
ফটিকছড়ির কাঞ্চনগরের মো. মুসার ছেলে মোবারক। নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে জোড়া খুন, পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ সাত মামলার আসামি তিনি। পুলিশ বলছে, অস্ত্র পরিচালনায় বেশ পারদর্শী মোবারক। তার ১৫-২০টি অস্ত্র বহনের ছবি পুলিশের কাছে রয়েছে। জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করে এনেছিলেন তিনিই। মোবারক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।
ছোট সাজ্জাদ চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত আট ছাত্রলীগ নেতা খুনের মামলায় অভিযুক্ত (পরে খালাসপ্রাপ্ত), বর্তমানে বিদেশে পলাতক ‘শিবির ক্যাডার’ সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। বড় সাজ্জাদের হয়ে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও ও হাটহাজারীতে আধিপত্য বজায় রাখতে অপরাধ সংঘটিত করতেন ছোট সাজ্জাদ। গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকায় গ্রেফতার হন। কিন্তু থেমে নেই তার বাহিনী। বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন মোবারক ও মোহাম্মদ রায়হান। এই দুজনকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ।
গত বছরের ৫ নভেম্বর নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হন সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা। তিনি অন্তত ১৫টি মামলার আসামি। ওই দিন গুলিতে বিএনপিপ্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ আরও চার জন আহত হন। এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ ১৫ জন আসামি গ্রেফতার করলেও এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি সরোয়ারকে কে গুলি করেছে। তবে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, বাঁহাতি কোনও শুটার সরোয়ারকে খুন করেছে। যাকে শনাক্ত করা যায়নি।