রিপোর্টার: মাফিকুল ইসলাম
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার গো-হাটি এলাকার ইসলামপাড়া গ্রামে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার বিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধভাবে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা অতর্কিতভাবে কিল-ঘুষি, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে একাধিক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত জখম করে। হামলার সময় নারীদের ওপরও নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ঘরে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়, যার ফলে পরিবারটির ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা সমাজে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। একটি পরিবারের ওপর পরিকল্পিত হামলা, নারীদের ওপর নির্যাতন এবং লুটপাটের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে আহতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “সহিংসতা ও সন্ত্রাস নয়, আমরা আইনের শাসন চাই। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
বর্তমানে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয়রা।