স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
রাজধানীর বাজারসহ সারাদেশে মাছ, মাংস, ডিম ও সবজির দাম বেড়েছে। এসব নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে ভোক্তারা বিপাকে পড়েছেন। একই সঙ্গে বেড়েছে ডাল, মসলা, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলের দাম। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে চাপ আরও বেড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নতুন বাজার, বাড্ডা ও হাতিরপুলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আমাদের সংবাদতারা জানান, পোলট্রির ডিম প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। ডজন কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা।
ব্রয়লার মুরগি বাজারভেদে ১৮০-২০০ টাকা, লেয়ার ৩৩০-৩৫০ এবং সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০-৩৮০ টাকায়। গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৮০-৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারেও দাম বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বেশির ভাগ সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে, কিছু পণ্যের দাম ছাড়িয়েছে ১০০ টাকা। কারওয়ান বাজারে টমেটো বিক্রি হয়েছে ৬০-১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০-১২০ টাকা, দেশি পেঁপে ১০০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০-১০০ টাকায়। এছাড়া বরবটি, গাজর ও করলার দাম ছিল ৮০-১০০ টাকা কেজি। আলু বিক্রি হয়েছে ২০-৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৩০-৪৫ টাকায়।
মাছের বাজারেও বাড়তি দামের চাপ রয়েছে। পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২৪০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২২০ টাকা এবং দেশি রুই ৩৩০-৪৫০ টাকা কেজিতে। কাতল ৩৪০-৩৬০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৭০০-৮০০ টাকা, চাষের কৈ ২২০-২৫০ টাকা এবং পাবদা মাছ ৩৪০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে।
টিসিবির তথ্যমতে, মাঝারি চালের দাম ৬.২৫ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম ৬.০৯ শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহে ৬০-৬৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া আটাশ ও পাইজাম চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৫২-৬৮ টাকায়। একইভাবে স্বর্ণা বা মোটা চালের দাম ৫৫-৬০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৪৮-৬০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী মো. শামসু বলেন, বাজারে এখন ধান ও চালের সরবরাহ বেড়েছে। কৃষকরা নতুন ধান কাটছেন, ফলে চালের দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।
অন্যদিকে বেড়েছে ময়দা, ডাল, তেল ও পেঁয়াজের দাম।
টিসিবির হিসাবে, গত দুই দিনে প্যাকেটজাত ময়দার দাম কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খোলা পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ২ টাকা এবং সুপার পাম অয়েলের দাম বেড়েছে আড়াই টাকা।
মসুর ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। ছোট দানার মসুর ডাল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়ে ৪০-৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আমদানি করা আদার দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ৩০ টাকা। তবে জেলা ও বিভাগীয় শহরে এই দাম আরো বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীত মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। মাছ ও মাংস ব্যবসায়ীরাও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে দামের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বাড্ডা এলাকার ক্রেতা আমিনুল হক বলেন, একটা পণ্যের দাম কমলে কয়েকটা পণ্যের দাম আবার বেড়ে যায়। বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। একই পণ্যের দাম এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ভিন্ন।
কারওয়ান বাজারের আরেক ক্রেতা দীপ্তি সাহা বলেন, গত কয়েক মাস ধরে মাংস ও ডিমের বাজার অস্থির। এক-দেড় মাস আগেও ডিমের ডজন ছিল ১১০-১২০ টাকা, এখন ১৫০ টাকা। মাছ, মাংস, সবজির এমন দামে সাধারণ মানুষের জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।








