স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
দেশের ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিনে উপাচার্য (ভিসি) পরিবর্তন করেছে সরকার। অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের সরিয়ে বিএনপিপন্থী ও দলীয় বিবেচনায় নতুন মুখ বসানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদগণ। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের চার বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হলেও অবসরের বয়স পূর্ণ হলে সেই তারিখ পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভিসি হিসেবে পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. একরামুল হক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম এবং রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। বর্তমানে তিনি নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি করা হয়েছে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনকে।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। অন্যদিকে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।
এদিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানের নিয়োগ বিকেলে দেওয়া হলেও সন্ধ্যায় তা বাতিল করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদত্যাগ করেন। পরে অন্তর্র্বতী সরকার নতুন প্রশাসন গঠন করলেও এখন আবার সেই প্রশাসনের অনেককে সরিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫৬টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট আদর্শিক শিক্ষকদের অভিযোগ সাম্প্রতিক নিয়োগগুলোতে প্রশাসনিক দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরিচয় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ইউনূস আমলে জামায়াতের ভিসিদের বাছাই করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এখন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)সহ আরও অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেখানেও দলীয় ভিসি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।