চট্টগ্রাম থেকে: প্রথম ম্যাচে হার, দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো। এরপর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে শুরুতেই চাপে পড়েছিল টিম টাইগার্স। ধাক্কা সামলে চ্যালেঞ্জিং পুঁজির ভিত্তি গড়ে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। এরপর বল হাতে মোস্তাফিজের ৫ উইকেট, নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামদের চোখ জুড়ানো স্পেল। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত করে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়েছে লাল-সবুজের দল। তাতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
প্রায় ১৩ বছর পর কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে টিম টাইগার্স। সবশেষ ২০১৩-১৪ সালে ঘরের মাটিতে কিউইদের ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম জয় এটি। এর আগে ২০০৪ এবং ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে দুই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুদল, দুবারই জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। কিউইদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের তৃতীয় সিরিজ জয় এটি। ২০১৩-১৪ সালে হোয়াইটওয়াশের আগে ২০১১ সালে ৫ ম্যাচের সিরিজে ৪-০তে জিতে টিম টাইগার্স। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের সংগ্রহ গড়েছে টিম টাইগার্স। জবাবে নেমে ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ম্যাচের ধারাভাষ্য প্রচার করেছে রেডিও ভূমি।
কিউইদের রানাতাড়ায় পাঠিয়ে চতুর্থ ওভারে ৮ রানে উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। হেনরি নিকোলসকে শিকার বানান মোস্তাফিজুর রহমান। দ্বিতীয় উইকেটে উইল ইয়াং ও নিক কেলি মিলে যোগ করেন ৪৬ রান। ১৩.৩ ওভারে দলীয় ৫৪ রানে জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। উইল ইয়াং ফিরে যান ২৫ বলে ১৯ রান করে। ৬১ রানে তৃতীয় উইকেটে হারায় কিউইরা। ১৩ বলে ৫ টম লাথামকে ফেরান মিরাজ।
দলীয় ১০৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় সফরকারী দল। নিক কেলিকে দ্বিতীয় শিকার বানান মোস্তাফিজ। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৮০ বলে ৫৯ রান করেন কিউই ওপেনার। এরপর ডিন ফক্সক্রফট একপ্রান্ত আগলে রাখলেও দ্রুতই উইকেট হারাতে থাকে কিউইরা। শেষ উইকেটে বেন লিস্টারকে নিয়ে ৫০ রান যোগ করেন তিনি।
৪৪.৫ ওভারে সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে শেষ পর্যন্ত ২১০ রানে থামে তারা। ফক্সক্রফট ৭ ছক্কায় ৭২ বলে ৭৫ রান করেন। এছাড়া মোহাম্মদ আব্বাস ৩৬ বলে ২৫ রান করেন। বাকিদের কেউ দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
টাইগার বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ৮ ওভার বল করে ২ মেডেনসহ ৩০ রানে ৫ উইকেট নেন। নাহিদ রানা এবং মেহেদী হাসান মিরাজ নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া শরিফুল নেন একটি উইকেট।
ব্যাটে স্বাগতিকদের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে রানের খাতা খোলার আগে আউট হন সাইফ হাসান। আরেক ওপেনার তানজিদ তামিমও সুবিচার করতে পারেননি। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে আউট হন ৫ বলে ১ রানে। তিনে নামা সৌম্য ভালো শুরু পেয়েছেন। ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৩ চারে ২৬ বলে ১৮ রানে ফিরে যান।
৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। হাল ধরেন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। চতুর্থ উইকেট জুটিতে দুজনে যোগ করেন ১৬০ রান। ৩৮.১ ওভারে ১৯২ রানের সময় লিটন বোল্ড হন। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৯১ বলে ৭৬ রান করে।
তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে শান্ত, ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি তোলেন। ২০ ম্যাচ পর শতকের দেখা পেলেন। ২০২৪ সালের মার্চে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত ১২২ করেছিলেন। এদিন ১১৪ বলে সেঞ্চুরির পথে ছিল ৯ চার ও ২ ছক্কার মার।
সেঞ্চুরির পর ইনিংস লম্বা করতে পারেননি শান্ত। ৪৩তম ওভারের শেষ বলে ২২১ রানের সময় জেডিন লিনক্সের বলে বাউন্ডারি লাইনে নাথান স্মিথের ক্যাচ হন। ১১৯ বলে ১০৫ রান করে থামেন।
৪৭.৫ ওভারে ২৫৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ আউট হন ২ চারে ১৮ বলে ২২ রান করে। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে আউট হন শরিফুল ইসলাম। ৩ বল পর তানভীর ফিরে যান।
মোস্তাফিজকে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন তাওহীদ হৃদয়। ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৯ বলে ৩৩ রান করে হৃদয়, ৫ বলে ৩ রান করে অপরাজিত থাকেন মোস্তাফিজ।
নিউজিল্যান্ড বোলারদের মধ্যে উইল ও’রোর্ক ৩ উইকেট নেন। জেডিন লিনক্স ও বেন লিস্টার দুটি করে উইকেট নেন।





