মাফিকুল ইসলাম, পার্বতীপুর,(দিনাজপুর) প্রতিনিধি :-
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোস্তাসির রহমান মাহির (৬) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাখি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী যুবক মোস্তফা মোহনকে (২০) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
নিহত মাহির উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্যদর্গাপাড়া গ্রামের মোমিনুর রশিদের ছেলে। সে স্থানীয় দর্গাপাড়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির (রোল নং-২) ছাত্র ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিবেশী নূর আলমের ছেলে মোস্তফা মোহন পাখি দেওয়ার কথা বলে মাহিরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সন্ধ্যায় মাদ্রাসার পেছনের একটি ঝোপঝাড় থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের বাবা মোমিনুর রশিদ অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মোহন পরিকল্পিতভাবে মাহিরকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর ও আছাড় দেওয়ার পর গলা টিপে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মুখে কাদা ও মাটি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত মোস্তফা মোহন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে সে নিখোঁজ মাহিরকে খোঁজার নাটকেও অংশ নেয়। এর আগেও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সে মাহিরকে সঙ্গে নিয়ে যেত বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সকালে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “অভিযুক্ত মোস্তফা মোহনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য ও অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।”
মাদ্রাসার এক শিক্ষক জানান, মাহির অসুস্থ শরীর নিয়ে বৃহস্পতিবার মাদ্রাসায় এসেছিল। পরে তাকে দুপুরেই ছুটি দেওয়া হয়। বাড়ি ফেরার পথেই সে নিখোঁজ হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।