মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানকে নতুন করে অস্ত্র সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আজ শনিবার সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে অত্যাধুনিক বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সরবরাহ করতে পারে চীন। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী, চীন মূলত ‘ম্যানপ্যাড’ বা কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ৪০ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য এই অস্ত্রগুলো বড় ধরণের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
গত সপ্তাহে ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পেছনেও এই ধরনের ‘হিট-সিকিং’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন সরাসরি অস্ত্র না পাঠিয়ে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এই চালানটি পাঠানোর চেষ্টা করছে যাতে অস্ত্রের উৎস গোপন রাখা যায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান এই যুদ্ধবিরতিকে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূর্ণ করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে এবং চীন সেখানে প্রধান সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র এই দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘চীন কোনো পক্ষকেই অস্ত্র সরবরাহ করেনি। মার্কিন অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
উল্লেখ্য, এই খবরটি এমন এক সময়ে এলো যখন বেইজিং নিজেই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করছে। এদিকে, আগামী মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরে যাওয়ার কথা। এই সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না, কারণ তারা জানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপক্ষে জয় পাওয়া কঠিন। তবে ইরানের তেলের ওপর চীনের ব্যাপক নির্ভরতা থাকায় তারা তেহরানের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চায়। রাশিয়ার মতো সরাসরি গোয়েন্দা তথ্য বা আক্রমণাত্মক অস্ত্র না দিয়ে তারা ‘ডিফেন্সিভ’ বা আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র (যেমন বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা) সরবরাহের মাধ্যমে নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানকে বিভিন্ন প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করে আসছিল বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু এবারে সরাসরি সরকারিভাবে অস্ত্র সরবরাহ করা শুরু করলে তা এই অঞ্চলের উত্তেজনাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, আজ শনিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, চীনের এই পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।






