আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের জ্যাকোবাবাদ জেলায় ভিন্ন গোত্রের দুই যুবক-যুবতীর স্বেচ্ছায় বিয়ে ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা ঘটেছে। ক্ষুব্ধ একপক্ষের হামলায় শতাধিক বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।
আজ ১৭ই মে, রোববার জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, চান্না গোত্রের সিদরা চান্না স্বেচ্ছায় বুরিরো গোত্রের মুহাম্মদ হাসান বুরিরোকে বিয়ে করেন। গত ৪ঠা মে হায়দ্রাবাদের একটি আদালতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকেই উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয় এবং একের পর এক হুমকি-অভিযোগ আসতে থাকে।
বরপক্ষের অভিযোগ, বিয়ের পর সাদ্দাম বুরিরো ও আদিবাসী নেতা আহমেদ আলী চান্নার নেতৃত্বে প্রায় ৪০০ সশস্ত্র লোক বুরিরো সম্প্রদায়ের একটি পুরো গ্রামে হামলা চালায়। তারা গুলিবর্ষণ করে এবং একের পর এক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং অনেকের সারাজীবনের সঞ্চয় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
গ্রামবাসীরা জানান, তীব্র গোলাগুলির মুখে কেউ প্রতিরোধ করতে পারেনি। অনেকেই হতাহত হয়েছেন।
বরের বাবা মালহার বুরিরো বলেন, একজনের বিয়ে নিয়ে পুরো গ্রামকে শাস্তি দেওয়া হলো কেন? আমরা অসহায়ের মতো দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনি।’
অন্যদিকে চান্না সম্প্রদায় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, তাদের গ্রাম থেকে এক নাবালিকাকে অপহরণ করা হয়েছে।
মেয়ের বাবা অভিযোগ করেন, সিন্ধুর বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন লঙ্ঘন করে তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সন্দেহভাজনরা তার ১৪ ও ৪ বছর বয়সী দুই মেয়েকেই অপহরণ করেছে। মামলা করা সত্ত্বেও এখনও মেয়েদের উদ্ধার করা যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ ফয়জান আলী। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
এ ঘটনা নিয়ে আত্মগোপনে থাকা দম্পতি একটি ভিডিও বার্তায় সরকারের কাছে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়েছেন।
সূত্র: জিও নিউজ






