বিশেষ প্রতিনিধি
ডিজেলের তীব্র সংকটে জামালপুর ও গোপালগঞ্জ জেলায় সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে বোরো ধান চাষে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন কৃষকেরা, আর সম্ভাব্য ফলন নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। জামালপুরের সদর উপজেলার চরযথার্থপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মো. মোশাররফ এক একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। কিন্তু সেচের অভাবে তার ক্ষেতের ধান গাছ শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম। তিনি জানান, সেচ পাম্প চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না।
জেলার অধিকাংশ কৃষকই একই দুর্ভোগে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, অথচ কৃষকদের অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ খোলা বাজার থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনছেন। কৃষকদের ভাষ্য, তেলের অভাবে জমিতে সময়মতো পানি দেওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় পাম্পে গিয়ে শুনতে হচ্ছে— “তেল দেওয়া যাবে না”।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের জন্য জ্বালানি সরবরাহে স্পষ্ট সরকারি নির্দেশনা রয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আবদুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, কেউ যদি এই নির্দেশনা অমান্য করে এবং অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালপুরের মতো একই চিত্র গোপালগঞ্জেও। জেলার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন ‘তেল নেই’ অজুহাতে বিক্রি বন্ধ রাখছে দিনের পর দিন। হাতে গোনা কয়েকটি স্টেশন খোলা থাকলেও সেখানে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি মিলছে না, ফলে অনেক কৃষকই শূন্য হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
কৃষকেরা বলছেন, ধানে নিয়মিত পানি দেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু ডিজেলের অভাবে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, তীব্র গরম ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে ধান গাছ ইতোমধ্যেই কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফলন ধরে রাখতে নিয়মিত সেচ অপরিহার্য।
উপ-পরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, পানির অভাবে ধান গাছের উপরের পাতাগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।






