সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
দেশের বৃহত্তম বার অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে পরিচিত ‘ঢাকা আইনজীবী সমিতি’র (ঢাকা বার) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন এক অরাজকতার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন বার দখল করে রাখার পর এবার সরাসরি নির্বাচনের নামে ‘দখলদারিত্বের’ নকশা চূড়ান্ত করার অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ আইনজীবীরা।
আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল এই সমিতির ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, সিংহভাগ সাধারণ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে না দেওয়ার মাধ্যমে ভোটের আগেই একপাক্ষিক বিজয় নিশ্চিত করার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, সমিতির গঠনতন্ত্র তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সাধারণ আইনজীবীদের দাবি, বর্তমান এডহক কমিটির প্রভাব বলয়ের বাইরে থাকা কোনো সাধারণ সদস্য বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মনোনয়ন ফরমই সংগ্রহ করতে দেওয়া হয়নি।
মূলত বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি-র মনোনীত প্রার্থীরা ছাড়া আর কেউ যাতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, সেজন্যই এই ‘ফরম সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলা হয়েছে।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে দীর্ঘ ২০ মাস ধরে ঢাকা বারে কোনো নির্বাচিত কমিটি নেই। বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা একটি এডহক কমিটি করে এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। সাধারণ আইনজীবীদের মতে, গণতান্ত্রিক রীতি মেনে নির্বাচন দেওয়ার পরিবর্তে বর্তমান দখলদার পক্ষ এখন তাদেরই অনুগত ব্যক্তিদের ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ বা ‘নামকাওয়াস্তে’ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসানোর নাটক সাজিয়েছে।
ওবায়দুল হকসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিযোগ তুলেছেন যে, ঢাকা বারে প্রায় ৩০ হাজার সদস্য থাকলেও একটি বৃহৎ অংশকে ভোটাধিকার ও প্রার্থী হওয়ার অধিকার থেকে কৌশলে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। তারা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ‘স্বৈরাচারী আচরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আইনজীবীরা বলছেন, যে পেশাদাররা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লড়াই করেন, তাদের নিজের আঙিনাতেই এখন আইনের শাসন ও গঠনতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব মো. বোরহান উদ্দিনের অধীনে এই নির্বাচনের নাটক সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও অনেক যোগ্য প্রার্থী ফরমই হাতে পাননি।
সাধারণ আইনজীবীদের প্রশ্ন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদমর্যাদার ব্যক্তিদের নিয়ে যেখানে নির্বাচন নাটক চলে, সেখানে আইনজীবীদের প্রাণের সংগঠনে এই ‘সন্ত্রাসী দখলদারিত্ব’ কেন থামছে না? যদি দ্রুত এই স্বৈরাচারী নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাতিল করে সবাইকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে ঢাকা বার প্রাঙ্গণে বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বঞ্চিত আইনজীবীরা।






