জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর গ্রেপ্তার ও আদালতে উপস্থাপন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আজ ৯ই এপ্রিল, বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ উদ্বেগ জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৬ই এপ্রিল সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে আত্মীয়ের বাসা থেকে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। একজন নারীকে এভাবে মধ্যরাতে আটক করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসক বলেছে, দিনের বেলায় আরও স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এ কাজ সম্পন্ন করা যেত। আসক আরও জানায়, আদালতে উপস্থাপনের সময় ড. শিরীন শারমিনকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা বিচারপ্রক্রিয়ার মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে হুড়োহুড়ি-ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তিনি পড়ে যান, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি একজন বিচারপ্রার্থীর শারীরিক নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রের ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরা হয় বিবৃতিতে। সংস্থাটি মনে করে, গ্রেপ্তার ও হেফাজতের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক। অন্যথায় তা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে আইএসপিআর জানায় যে, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ৬২৬ জন ব্যক্তি সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যার তালিকায় ড. শিরীন শারমিনের নামও ছিল। তবে পরবর্তীতে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আসক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।







