কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় রাতের বেলা নিজ বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ ওই ছাত্রী বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে।
মেয়েটি আতঙ্কগ্রস্ত ও ভীত অবস্থায় আছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। উদ্ধারের সময় তার মুখে স্কচটেপ এবং হাত-পা বাঁধা ছিল বলে জানা গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে।
ছাত্রীটির মামা জানান, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে ২০২৬ ব্যাচের এসএসসি শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল। আমার ছেলেও এবার পরীক্ষা দেবে একই স্কুল থেকে। সকালে বাড়ি থেকে আমার ভাগিনা বের হয়। সবাই বাড়ি চলে আসলে বিকেল ৩টার পর বোনের মেয়ে বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজার পর তাকে না পেয়ে রাতে বিদ্যালয়ের দপ্তরি হামিদুল ইসলামের কাছে যান পরিবারের সদস্যরা। দপ্তরি তাদের জানান, বিদ্যালয়ে কেউ নেই। বিদ্যালয় এখন খোলা যাবে না বলে অস্বীকৃতি জানান। মেয়েটির মামার সাথে খারাপ ব্যবহারও করেন হামিদুল। পরে প্রধান শিক্ষকের হস্তক্ষেপে স্থানীয়রা চাবি নিয়ে গিয়ে বিদ্যালয় খুলে দেখেন তৃতীয় তলার একটি কক্ষে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। তার হাত ও পা বাঁধা এবং মুখে স্কচটেপ লাগানো। তার বই খাতা ক্লাসে পড়ে ছিল। এরপর ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করে দ্রুত মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর মামা আরও জানান, গভীর রাতে আমি ও আমার স্ত্রী হাসপাতালে ছিলাম। মেয়ে কোনো কিছু বলেনি এখনো। শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল। তার কপালে একটি আঁচড়ের দাগ মতো রয়েছে। তার সাথে কোনো খারাপ কিছু হয়েছে কিনা আমরা জানি না। শিক্ষার্থীর মা জানান, খবর পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে এসেছেন সকালে। মেয়ে খুবই অসুস্থ। সে কিছু বলতে চাচ্ছে না। আতঙ্কগ্রস্ত।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েটি গাইনি ওয়ার্ডে বেড না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে আছে। লোকজনের জটলা দেখা যায়। পরে তাকে একটি বেড দেওয়া হয়। মেঝে থেকে বেডে সরানোর সময় সে খুব কষ্ট পাচ্ছিল। তার মাকে আস্তে করে কোলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছিল।
ওই শিক্ষার্থীর মা আরও জানান, আমরা গরীব মানুষ। গ্রামে ভাইয়ের বাড়িতে রেখে ঢাকায় ওর বাবা ও আমি কাজ করি। এবার ৫ম শ্রেণি থেকে পরীক্ষা দিয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। এ অবস্থায় কি করবেন তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খাইরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমিও সেখানে যাই। খোঁজ করতে গিয়ে দপ্তরি তৃতীয় তলায় একটি স্থানে মেয়েটিকে দেখতে পায়। তখন সে কিছুটা বসা ও কিছুটা শোয়া অবস্থায় ছিল।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আজিজ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সে প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানিয়েছে। বিষয়টি চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো কারণে হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে তাকে রাতে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, ভর্তির পর আমাদের গাইনি ওয়ার্ডের নারী চিকিৎসকরা মেয়েটিকে পরীক্ষা করেছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। মেয়েটি খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তাকে নিবিড়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সে কিছু বলতে চাচ্ছে না। তার সাথে খারাপ কিছু হয়েছে এমনটা মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি থানায়।