স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
ফরিদপুর থেকে ঝিনাইদহের শৈলকুপার মাসুম বিল্লাহ (২৮) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মাসুমের এই মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করছে তার পরিবার, যদিও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটি আত্মহত্যা। এই মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। নিহত মাসুম বিল্লাহ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের হাজরামিনা গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। মাসুম ওই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টের পর তিনি ঢাকায় একটি সিগারেট কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ঈদুল ফিতরের পর তাকে ঢাকা থেকে ফরিদপুরে বদলি করা হয়। মাত্র দুই দিন আগেই তিনি বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন। শুক্রবার ফরিদপুর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মাসুম বিল্লাহ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে আত্মহত্যার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে মাসুমের অকাল মৃত্যুতে হাজরামিনা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের দেড় মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
মাসুমের পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তারা একে ‘সাজানো আত্মহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। নিহতের স্বজনরা জানান: মাসুমের কোনো শত্রু ছিল না, তার ছোট একটি সন্তান আছে। সে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে অন্য কোথাও হত্যা করে এখানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। শৈলকুপা ও ফরিদপুর উভয় অঞ্চলেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। মাসুমের পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের (যদি থাকে) আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বর্তমানে পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ।






