স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট
দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে জাটকা ইলিশ সংরক্ষণে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু করেছে সরকার। এজন্য মাছধরার উপর নির্ভরশীল জেলেদের ভিজিডির চাল সহায়তা দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও পটুয়াখালীর বাউফলের তালিকাভুক্ত জেলেরা সহায়তার চাল পাননি।
চাল না পাওয়ায় নদীতে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল জেলেরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ঈদের আগে চাল না পেলে সন্তানদের নিয়ে ঈদ করতে পারবেন না বলেও জানিয়েছেন।
বাউফলের তেঁতুলিয়া পাড়ের জেলেদের অভিযোগ, সরকারের সংশ্লিষ্ট লোকজন ও ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানদের গাফিলতির কারণেই সঠিক সময়ে তারা সরকারি সহায়তার চাল পাচ্ছেন না।
বাউফল উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১লা মার্চ থেকে ৩০শে এপ্রিল দুই মাস দেশের ছয়টি ইলিশ অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাউফল ও দশমিনা উপজেলা-সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর কালাবদর থেকে গঙ্গামতী পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এ নিষেধাজ্ঞার আওতাভূক্ত।
গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের কাছে খাদ্য সহায়তার চাল উত্তোলন ও বিতরণের ছাড়পত্র প্রদান করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
নিয়ম অনুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যানরা উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে জেলেদের মধ্যে বিতরণ করবেন। কিন্তু তারা বিতরণের উদ্যোগ নিচ্ছেন না। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন জেলেরা।
গত ১লা মার্চ থেকে তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এ নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেরা।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে মফিজুল বলেন, ‘নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য সরকার মোগো চাল দেয়। মোরা হুনছি, মৎস্য অফিসের ছার কইছে, চালের ডিও অনেক আগেই দিছে। চেয়ারম্যানকে চালের কথা বললে তিনি বলেন এখন হবে না, ঈদের পরে পাবা। আমরা এ্যাহন অনেক কষ্টে আছি। রোজার মাসে ধার করে চলছি।’






