স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট
রাজশাহীর বাগমারায় ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে পৌরসভার ভিজিএফ তালিকাভুক্তদের মধ্যে চাল বিতরণরে জন্য চার হাজার ৬২৫ জনকে ডাকা হয়। সকালে ভবানীগঞ্জের আলু হাটায় চাল বিতরণ শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কিছু লোক চাল নিতে আসলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি তালিকায় নাম থাকার পরেও চাল দেওয়া হয়নি এবং স্বজনপ্রীতির কারণে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আলু হাটায় চাল বিতরণ বন্ধ রেখে পৌরসভার ভেতরে চাল বিতরণ শুরু হয়। সেখানে ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক অবস্থান করছিলেন। এসময় বঞ্চিতদের নিয়ে জামায়াত-শিবিরের কিছু সমর্থক পৌরসভার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে। সেখানে বাগমারা-৪ আসনের স্থানীয় এমপির মিডিয়া কর্মকর্তা আসাদুল্লাহ আল ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন। তারা তালিকা তৈরিতে বিএনপিকে দায়ী করেন এবং অনিয়মের অভিযোগ এনে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এসময় বিএনপির পৌরসভার সভাপতির অনুসারী আবদুর রাজ্জাক ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভবানীগঞ্জ পৌরসভার বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক হাতাহাতির ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ‘চাল বিতরণকালে জামায়াত-শিবির সমর্থক কয়েকজন ভেতরে এসে মব তৈরির চেষ্টা করছিল। পরে তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল বারী সরদারের মিডিয়া কর্মকর্তা আসাদুল্লাহ আল ফিরোজ বলেন, তালিকায় নাম থাকার পরেও জামায়াতের লোকজনদের চাল দেওয়া হয়নি। তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এমন খবর জানার পর পৌরসভার কার্যালয়ে আসলে সেখানে বিএনপির সভাপতি ও তার ছেলেকে প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়। এসময় প্রতিবাদ করলে আমাদের উপর হামলা করা হয়।
ভবানীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, তালিকাভুক্তদের মধ্যে ৩৪ জন চাল পায়নি। এছাড়াও তালিকাভুক্ত নন, এমন কিছু লোকজন এসে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছিলেন। পরে বঞ্চিত ৩৪ জনকে চাল দেওয়া হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত নয় এমন অনেক লোক এসে ভিড় করেছিলেন।