1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব: জামায়াত আমির জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদনে সতর্ক থাকার আহ্বান মার্কিন দূতাবাসের কারাবন্দিদের জন্য ভিডিওকলের সুবিধা, স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ বাল্যবিবাহ নির্মূলে ২৭ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণা করল জাতিসংঘ গাজার ধ্বংসস্তূপে মিলল একই পরিবারের ৫৫ সদস্যের মরদেহ বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধানে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নতুন লুকে সিয়াম, ‘আন্ধার’ সিনেমার টিজার প্রকাশের পর শুরু আলোচনা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত,তেরখাদা নতুন বাসস্ট্যান্ড চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় মনোহরদীতে,অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করল প্রশাসন। 

ফয়সালকে ‘বলির পাঁঠা’ না করে পর্দার আড়ালের মূল খুনিদের ধরতে বললেন হাদির বোন

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ৯৯ সময় দর্শন

স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিহত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ‘পর্দার আড়ালের মূল পরিকল্পনাকারীদের’ আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন হাদির পরিবার।

হাদির বোন মাসুমা হাদি বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডে কেবল ফয়সালকে দায়ী করে তাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হলে প্রকৃত বিচার হবে না। তার মতে, যারা পরিকল্পনা করেছে এবং নেপথ্যে থেকে ঘটনাটি ঘটিয়েছে—তাদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা জরুরি।

তিনি বলেন, “পুরো গ্যাং যেন সামনে আসে এবং জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হয়। শুধু ফয়সাল যেন বলির পাঁঠা না হয়। ফয়সালের ফাঁসি দিয়ে অন্যদের আড়াল করা হলে তা কখনোই ন্যায়বিচার হবে না।”

হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রায় আড়াই মাস পর প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স।

এসটিএফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই রোববার এসটিএফের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানায়, গভীররাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসটিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই বাংলাদেশি নাগরিক চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে—এমন ‘গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য তাদের কাছে ছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসটিএফ জানিয়েছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার পর পালিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার পর শেষ পর্যন্ত বনগাঁ এলাকায় অবস্থান নেয়।

গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে ভারতে মামলা করা হয়েছে এবং আদালতে হাজির করার পর পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এসটিএফ।

‘পর্দার আড়ালের মূল খুনি’ কারা

হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি অনুসন্ধানে এই ঘটনায় আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরিকল্পনাকারী হিসেবে গোলাম পরওয়ার–এর ছেলে সালমান পরওয়ার–এর নাম উঠে এসেছে।

ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারীদের কেউ কেউ তার জানাজার সামনের সারিতেই উপস্থিত ছিল।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ঘটনাস্থলে থাকা হাদির সহযোগী মিসবাহকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় হত্যাকাণ্ডে নতুন কিছু তথ্য সামনে আসে। সেখানে দাবি করা হয়, তাকে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি ও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছিল এবং সেই সূত্র ধরে সম্ভাব্য পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। হাদির পরিবারের দাবি, প্রকৃত পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা না হলে এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ওরা আমাদের এখনো অফিসিয়ালি কনফার্ম করেনি।”

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা হাদিকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ নেওয়া হয়।

পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

হামলার পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন, পরে এতে হত্যা ধারা যুক্ত করা হয়। তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ও ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। তবে অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি আবেদন করলে আদালত মামলাটির তদন্তভার দেয়  সিআইডি’কে।

হাদির বোন মাসুমা হাদি বলেন, অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার সম্পন্ন করতে হবে এবং গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

হাদির বাবা ঝালকাঠির একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকায় তাদের বাড়ি। নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায় তার শিক্ষাজীবন শুরু, পরে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host