মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলার এক তরুণী প্রায় এক বছর আগে নুরুল হকের পরিচালিত একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি নেন। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি মহাশয়ের বাজার এলাকায় অবস্থিত অফিসে ওই তরুণীকে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ সময় কৌশলে মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখেন নুরুল হক।
পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রায় পাঁচ মাস ধরে তাকে জিম্মি করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এমনকি অচেতন করে তাকে নুরুল হকের বন্ধু ও বিদেশে থাকা পরিচিত ব্যক্তিদের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ওই তরুণী চাকরি ছেড়ে দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তি আপত্তিকর ভিডিও বিদেশে থাকা বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে দেন। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর ভুক্তভোগী বাহুবল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুধু ওই তরুণী নন—প্রতিষ্ঠানটির আরও কয়েকজন নারী কর্মী একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলায় চুনারুঘাট ও বাহুবল উপজেলার আরও দুই তরুণীকে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি রাশিদা নামের এক শিক্ষার্থী হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।
র্যাব-৯-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান অভিযুক্ত নুরুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মানবাধিকার সংস্থা ও এনজিওর আড়ালে অসহায় নারীদের ব্ল্যাকমেইল করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে র্যাব জানিয়েছে।
বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পলাতক থাকা অবস্থায় র্যাবের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।






