জাতীয় নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে দাবি করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো কারচুপি হতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। রোববার বরিশালে এনসিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট কারচুপি ও ডাকাতি, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সম্পর্ক নাহিদ বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমরা অংশ নিয়েছিলাম। আমরা ছয়টি আসনে বিজয় লাভ করে জাতীয় সংসদে পৌঁছে গিয়েছি। কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। আমাদের সঙ্গে ইলেকশনে যে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফলে যে কারচুপি হয়েছে, তার উদাহরণ নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম। ফলাফলে কারচুপি করে তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই ফলাফল নিয়ে দুটি শপথ নিয়েছি। কিন্তু যারা সরকার গঠন করেছে তারা একটি শপথ নিয়েছে। তারা নির্বাচনের পরেই জনগণের প্রতি যে আশ্বাস, সেই আশ্বাস ভঙ্গ করেছে।’
এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটা দেশের দিকে যাচ্ছি যেখানে চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজ বলতে পারবেন না। চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজ বললে আপনার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। সেই পুরোনো কায়দায় পুরোনো সিস্টেম চলছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে এই প্রজন্মের সঙ্গে পুরোনো কায়দায় আচরণ করে লাভ নাই।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১২ তারিখের অধিবেশনে সংস্কার পরিষদ গঠিত না হলে, সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়া হলে নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য আবারও রাস্তায় নামতে হবে।’
এদিকে একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করব আপনি যেভাবেই ক্ষমতায় আসুন না কেনো, ভারতের সঙ্গে হয়তো চুক্তি করে এসেছেন। এখন তো ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এখন চুক্তিটা ভঙ্গ করে দেন। যদি আপনাকে ক্ষমতায় থাকতে হয় তাহলে ভারতের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গেই থাকতে হবে।’
নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘যারা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়াকে হত্যা করেছিল, যারা আপনারা মেরুদন্ড ভেঙেছিল তাদের সঙ্গে আপনি আঁতাত করবেন না। তাদের সঙ্গে যদি আঁতাত করেন– তাহলে বিএনপির যারা নেতাকর্মী রয়েছে তারাই বিদ্রোহের পতাকা বাংলাদেশে উত্থাপন করবে।’
নিজের মামলা নিয়ে পাটওয়ারী বলেন, ‘ওই ব্যক্তি চাঁদাবাজি করে, সন্ত্রাসী করে। এমন লোকের কোনো মান থাকতে পারে না। যার মান আছে তারই তো মানহানি হয়।’






