নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবউদ্দিন। আগামী ১০ই মার্চ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।

আজ ৮ই মার্চ, রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নারীর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট হবেন। ফ্যামিলি কার্ডের উদ্যোগ পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে থেকে শুরু করে চব্বিশের জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সব আন্দোলন ও সংগ্রামীদের স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ‘শহিদদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা ছিলো বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই আমরা দেশ ও জনগণের জন্য আত্মত্যাগের প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করতে পারি।’

বাংলাদেশের সংস্কৃতি পর্যালোচনা

নারীদের অধিকা বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ অবদানকারী নারী। গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি শিল্প-সাহিত্য, কলকারখানা ও নির্মাণসহ সব ক্ষেত্রেই নারীর অবদান অসামান্য। নারীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আমরা যত পরিকল্পনাই গ্রহণ করি না কেন, এর সুফল পেতে হলে ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।’

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবউদ্দিন আরও বলেন, নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। অতীতেও আমরা দেখেছি, সরকার আন্তরিক হলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে সামাজিক হয়রানির পাশাপাশি অনলাইনে নারীর চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিং অপরাধ নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে।