মব সন্ত্রাস এবং বিচ্ছিন্ন অপরাধকে এক করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, মব এক ধরনের ঘটনা আর স্পট ক্রাইম বা নির্দিষ্ট অপরাধ ভিন্ন বিষয়—সবগুলোর সঙ্গে তো মব গুলিয়ে ফেললে হবে না।
আজ ৮ই মার্চ, রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মব জাস্টিস নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি নরসিংদীতে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, একাধিক ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। পরে তদন্তে জানা যায়, ঘটনার সঙ্গে ভুক্তভোগীর সৎ বাবা জড়িত। অভিযোগ ওঠার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং কয়েকজন ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের আরও কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর সরকার জানে, যার মধ্যে চট্টগ্রামের একটি ঘটনাও রয়েছে। এসব বিষয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। তবে বিচ্ছিন্ন অপরাধকে মব হামলার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না।
তবে মব সন্ত্রাস নিয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক বলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মব কালচার বাংলাদেশে থাকতে পারে না। এ ধরনের প্রবণতা নির্মূলে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
এদিকে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে সম্ভাব্য অস্থিরতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে তৈরি পোশাক খাতের মালিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে। বিজিএমইএ, বিটিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা শ্রমিকদের বেতন, ভাতা ও বোনাস ঈদের আগেই পরিশোধে আন্তরিক বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই সময়মতো পরিশোধ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার ও ব্যাংকিং খাত এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। কোথাও সমস্যা দেখা দিলে তা আগেই সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।”
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্তের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট এবং কৃচ্ছ্রসাধনের কথা মাথায় রেখে এবার ২৬শে মার্চ দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা করা হবে না।
মন্ত্রী বলেন, “সাধারণত এ দিবসে বিভিন্ন স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি সাশ্রয় এবং কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস যথাযথ মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা হবে। এ কর্মসূচিতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রধান ভূমিকা পালন করবে, আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
২৬শে মার্চ ভোরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিরোধী দলের নেতা এবং বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের পুষ্পস্তবক অর্পণ কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে শিল্পাঞ্চল ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বিজিএমইএ, বিটিএমইএ, বিকেএমইএ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।






