নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর ঝুলিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত শিশু বিক্রমশ্রী গ্রামের অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলামের মেয়ে।
ঘটনার পরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রামের কয়েক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বারহাট্টা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদির এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিক্রমশ্রী গ্রামে শুক্রবার বিকেলে শিশুটিকে খালি ঘরে রেখে তার মা বাড়ির সামনের মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর ঘরে এসে দেখেন মেয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে। মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা বলেন, ‘আমি ভাত খাওয়া অবস্থায় মেয়েকে রেখে যাই। মাঠ থেকে এসে দেখি ঘরের ধর্নার (আড়া) সঙ্গে ঝুলছে। আমার মেয়েকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’
ভুক্তভোগী শিশুটির চাচাতো ভাই বলেন, ‘ছোট্ট একটা মেয়েকে যারা বাঁচতে দেয়নি, তাদের কঠিন বিচার হওয়া উচিত। আমরা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
বারহাট্টা থানার এসআই আব্দুল কাদির বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নরসিংদীতে ধর্ষণের স্বীকারোক্তি
নরসিংদীর মাধবদীতে দলবদ্ধ ধর্ষণে মূল অভিযুক্ত হৃদয় মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত পুলিশের পরিদর্শক শফিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মোবাইল ফোনের পরিচয়ের সূত্রে হৃদয় মিয়া ও ওই নারীর মধ্যে কথিত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই নারী আড়াইহাজার এলাকায় ঈদের কেনাকাটা করতে গেলে হৃদয়ের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়। তখন হৃদয় তাঁকে কাঁঠালিয়ায় তার সঙ্গে দেখা করার জন্য আসতে বলেন।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে। প্রথমে ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার থানাকে জানান। তারা ঘটনাস্থলে এসে নরসিংদীর মধ্যে ঘটনা হওয়ায় আমাদের জানায়। রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কারও নাম বলতে পারেননি। মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে অভিযুক্ত হৃদয়কে আমরা গ্রেপ্তার করি।
তিনি আরও বলেন, আমরা অন্যদের পরিচয়ও শনাক্ত করেছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।