1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব: জামায়াত আমির জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদনে সতর্ক থাকার আহ্বান মার্কিন দূতাবাসের কারাবন্দিদের জন্য ভিডিওকলের সুবিধা, স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ বাল্যবিবাহ নির্মূলে ২৭ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণা করল জাতিসংঘ গাজার ধ্বংসস্তূপে মিলল একই পরিবারের ৫৫ সদস্যের মরদেহ বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধানে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নতুন লুকে সিয়াম, ‘আন্ধার’ সিনেমার টিজার প্রকাশের পর শুরু আলোচনা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত,তেরখাদা নতুন বাসস্ট্যান্ড চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় মনোহরদীতে,অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করল প্রশাসন। 

বেতন ৪৯ হাজার টাকা, নিজের ও স্ত্রীর নামে গড়েছেন কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ১১৪ সময় দর্শন
স্বপ্ন প্রতিদিন অনলাইন ডেস্ক

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত একরামুল হক। দশম গ্রেডের এই কর্মকর্তার মাসিক বেতন প্রায় ৪৯ হাজার টাকা। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সীমিত আয়ের এই চাকরির বিপরীতে তিনি ও তার স্ত্রী মিলে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়।

বিভিন্ন নথি ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, একরামুল হক ও তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের মোট সম্পদের পরিমাণ অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে শাম্মী আক্তারের নামে রয়েছে প্রায় ৩০ কোটির বেশি সম্পদ এবং একরামুল হকের নিজের নামেও রয়েছে অন্তত ২০ কোটির সম্পদ।

এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট, প্লট, বিপুল পরিমাণ জমি এবং ব্যাংক আমানত।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একরামুল হকের বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন যশোরে। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আয়কর ফাইল করা হয়েছে কুষ্টিয়ায়।

ট্যাক্স নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাদের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদের কোনো উল্লেখ নেই।

এত বিপুল সম্পদের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে একরামুল হক দাবি করেন, এসব সম্পদের প্রকৃত মালিক তার ভাই। তবে কেন এসব সম্পদ তার নিজের নামে রয়েছে—এ বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

শাম্মী আক্তারের আয়কর নথিতে পেশা হিসেবে ‘ব্যবসায়ী’ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি মূলত গৃহিণী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে একরামুল বলেন, তার স্ত্রী কীভাবে এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন তা তিনি জানেন না এবং বাসায় গিয়ে এ বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।

এদিকে আয় ও সম্পদের মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়ায় একরামুল দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অনুসন্ধানে মিলছে যতটুকু

একরামুল দম্পতির সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে বড়টি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডুমনি মৌজায় (খতিয়ান নং ১১৬৭৮) প্রায় ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির একটি প্লট। ওই এলাকায় প্রতি শতাংশ জমির বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা হিসেবে প্লটটির সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়ায় অন্তত ৩০ কোটি টাকা।

গত জানুয়ারি মাসে শাম্মী আক্তার এই প্লটের নামজারির জন্য আবেদন করেছেন। সেই আবেদনের নথিও পাওয়া গেছে।

তবে একরামুল ও তার স্ত্রী দাবি করেছেন, বসুন্ধরায় তাদের কোনো সম্পত্তি নেই। শাম্মী আক্তারের নামে নামজারির আবেদন কেন করা হয়েছে—এ প্রশ্নে একরামুল বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না এবং তাদের এমন কোনো সম্পত্তি নেই বলেই তিনি নিশ্চিত।

একরামুল দম্পতির উল্লেখযোগ্য সম্পদের বড় অংশই কুষ্টিয়ায়। নথি অনুযায়ী, কুষ্টিয়া সদরে নিজের ও স্ত্রীর নামে অন্তত পাঁচটি জমি কিনেছেন একরামুল হক।

চৌড়াহাস-২২ মৌজার ৬০০৩ নম্বর খতিয়ানে মুক্তির পুকুরপাড় এলাকায় প্রায় ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ জমি কিনে সেখানে একটি ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। জমি ও ভবন মিলিয়ে এর বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।

এ ছাড়া ঢাকা ঝালুপাড়া-২৭ মৌজার ৪০৮/১ খতিয়ানে একরামুলের নামে রয়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ জমি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। একই উপজেলায় তিনি নিজের নামে ১ দশমিক ১২৩ শতাংশ জমিসহ একটি ফ্ল্যাটও কিনেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা।

কুষ্টিয়ায় একরামুলের ছয়তলা বাড়ি ও তার নথিপত্র

স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে কুষ্টিয়া সদরে দুটি জমি রয়েছে। হাটশ হরিপুর-১৮ মৌজায় ২০১৮ খতিয়ানে প্রায় ১৮ দশমিক ৯৭৫ শতাংশ এবং হাজরাহাটি-৫৩ মৌজায় পাঁচটি খতিয়ানে প্রায় ৪৪ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি রয়েছে তার নামে। স্থানীয় সূত্র মতে, জমি দুটি যথাক্রমে প্রায় ৬০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা মূল্যের।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলাতেও নিজের নামে একাধিক জমি কিনেছেন একরামুল। বারুইপাড়া ইউনিয়নের কেউপুর-৫২ মৌজায় ১৯০ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে পানের বরজ করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

একই মৌজার ১১৬৭ খতিয়ানে প্রায় ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বাগান করেছেন, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।

কুষ্টিয়া সদরে একরামুলের ফ্ল্যাটবাড়ি

কুষ্টিয়ার পোড়াদহ হাজরাহাটি বাজারে একরামুলের একটি দোতলা বাড়ি এবং চারটি দোকান রয়েছে। এছাড়াও তার মালিকানায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি।

একরামুলের ৫৫ শতাংশ জমির পানবরজ এবং বাগান

হাজরাহাটি-৫৩ মৌজার ৬৯৫ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ১২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ (প্রায় চার বিঘা) জমি কিনে সেখানে তামাক চাষ করা হচ্ছে, যার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। একই মৌজায় তিনি আরও ২২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ (প্রায় সাত বিঘা) জমি কিনেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

এছাড়া একই মৌজার ২৫-৮৫০ নম্বর খতিয়ানে নিজের নামে প্রায় ২৯৭ শতাংশ (প্রায় ৯ বিঘা) জমি রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।

স্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি একরামুল হকের বিভিন্ন ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ জমা রয়েছে। অনুসন্ধানে তার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে অ্যাকাউন্ট রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে।

তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে প্রায় ৩ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকে প্রায় ২০ লাখ টাকা এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা রয়েছে। এছাড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে প্রায় ২১ লাখ এবং অগ্রণী ব্যাংকে প্রায় ৪ লাখ টাকা জমা রয়েছে।

তামাক খেত এবং দোতলা বাড়ি

একরামুলের ব্যাখ্যা

এসব সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে একরামুল হক বলেন, তার নিজের সামান্য কিছু সম্পত্তি রয়েছে। বাকি সম্পদের মালিক আসলে তার ভাই। তার দাবি, ভুলবশত তার ভাই এসব সম্পত্তির অনলাইন নথি তার নামে করে রেখেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host