স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট
যশোরে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফি ছড়িয়ে মানহানি এবং পরবর্তীতে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সোনিয়া আক্তার দিয়া (ছদ্মনাম) অভিযোগ করেছেন, মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় তাকে প্রভাবশালী মহলের ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি খোদ বিএনপির জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নাম ব্যবহার করে একদল সন্ত্রাসী তার পরিবারকে গুম ও এসিড মারার হুমকি দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। শনিবার দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব অভিযোগ করেন অভয়নগরের পোতপাড়া গ্রামের এই অসহায় নারী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সোনিয়া জানান, ২০২৪ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে যশোর শহরের শংকরপুর চোপদার পাড়ার শামীম আহমেদ মানুয়ার ছেলে এহসান আহমেদ ফয়সালের সাথে তার পরিচয় হয়। প্রেমের সম্পর্কের জেরে ফয়সাল তাকে কুয়াকাটায় ঘুরতে নিয়ে গিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি যশোর কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, মামলা দায়েরের পর আসামি ফয়সাল, তার বাবা শামীম ও দুলাভাই ‘রিপন অটো’র মালিক রিপন তাকে মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক বিষ পান করান। অচেতন অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হলে পথচারীরা উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনায় তিনি হত্যাচেষ্টা মামলাও করেন। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি ফয়সাল তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ছড়িয়ে দিলে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ আরও একটি পর্নোগ্রাফি মামলা দায়ের হয়।
সোনিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, কোনোভাবেই তাকে দমাতে না পেরে আসামিরা রাজনৈতিক কার্ড ব্যবহার শুরু করেছে। তিনি বলেন, “আমার বাসায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একদল সন্ত্রাসী পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা নিজেদের অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের লোক বলে পরিচয় দেয় এবং অনেক ক্ষমতাধর বলে দাবি করে। তারা আমাকে গুম করা, মুখে এসিড মারা এবং আমার বাবাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।”
তবে সোনিয়া যখন হুমকিদাতাদের বলেন যে তিনি সরাসরি অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছেই বিচার চাইবেন, তখন সন্ত্রাসীরা দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়ে। এতে স্পষ্ট হয় যে, অপরাধীরা নিজেদের বাঁচাতে প্রভাবশালী নেতার নাম অপব্যবহার করছে।
অসহায় এই নারীর দাবি, আসামিরা প্রভাবশালী ও অর্থশালী হওয়ায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। উল্টো আসামিপক্ষের মিথ্যা মামলায় তার ছোট ভাইকে কোনো তদন্ত ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও ‘রিপন অটো’র অর্থের প্রভাবে পুলিশ প্রভাবিত হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সোনিয়া আক্তার বলেন, “আমি গরিব বলে কি বিচার পাব না? আমার সম্মান গেল, জীবনও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলো, এখন আমার পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আমি সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাই।”
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত এহসান আহমেদ ফয়সাল বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার করে যারা অপরাধ ঢাকতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে নারীর বক্তব্য নেওয়ার সময় প্রেসক্লাব যশোরের এক সাংবাদিক নেতা ডিবিসি টেলিভিশনের কর্মরত সাংবাদিক মেহেদি হাসান উজ্বলের সাথে অসৌজন্য আচরণ করেন। এমনকি সংবাদ প্রচার না করার জন্য বিএনপি মতাদর্শের একাধিক সাংবাদিক অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের উপর চাপ তৈরি করেন।
উল্লেখ্য, ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ফয়সালের ভগ্নিপতি রিপন অটোর মালিক রিপন এবং তার ভাই টিপু নগর বিএনপির নেতা। সুত্র বলছে, এই রিপন অটো বিএনটির ডোনার হিসেবে কাজ করে। যে কারণে ধর্ষণের মত এত বড় অপরাধ করেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন তারা। সাথে সাথে ধর্ষণের শিকার নারী ও তার পরিবারকে প্রতিনিয়ত হয়রাণিসহ হুমকি দিয়ে আসছে।






