হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহের নারীদের ইবাদতখানার ছাদে উঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম-এর স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে ঘটনার ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ঘিরে সিলেটের নাগরিক সমাজের একটি অংশের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দরগাহ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে সারজিস আলম একের পর এক স্লোগান দিচ্ছেন এবং সেখানে উপস্থিত হাজারো মানুষ তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলাচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন এনসিপির সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে একটি বিভাগীয় ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে দলের আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অংশ নেন।
ইফতার শেষে নেতারা দরগাহ মসজিদে তারাবিহ নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তাঁরা বের হয়ে আসার সময় দরগাহ প্রাঙ্গণে উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষ স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় নাহিদ ইসলাম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দরগাহ এলাকা ত্যাগ করলেও সারজিস আলম একপর্যায়ে দরগাহের ভেতরে অবস্থিত নারীদের ইবাদতখানার ছাদে উঠে স্লোগান ধরেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, সারজিস আলম ও উপস্থিত সমর্থকেরা ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’, ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘যুগে যুগে লড়ে যাব, আমরা সবাই হাদি হব’ এবং ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সিলেটের নাগরিক সমাজের একটি অংশ এর সমালোচনা করে। তাঁদের অভিযোগ, দরগাহের মতো আধ্যাত্মিক ও পবিত্র স্থানে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া অনুচিত এবং এতে স্থানের ভাবগাম্ভীর্য ক্ষুণ্ন হয়েছে।
সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আবদুল করিম চৌধুরী (কিম) ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করে লিখেছেন, ‘সুলতানুল বাঙাল হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের সময় আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল দলীয় স্লোগান দিয়ে মাজার এলাকার আদব নষ্ট করেনি। গতকাল মধ্যরাতে মাজার জিয়ারতের নামে এনসিপির নেতারা যে আচরণ করেছেন, তা সুফি দরগাহের আদবের খেলাফ।’
এদিকে মাহতাব শাহ ফকির নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘কোনটা দোয়ার জায়গা আর কোনটা স্লোগানের মঞ্চ—যারা এই পার্থক্যই বুঝতে পারে না, তারা কীভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে? সিলেট আধ্যাত্মিকতার রাজধানী। এখানে আবেগ নয়, আদবই প্রথম শর্ত।’
তবে এনসিপির নেতারা বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন। এ বিষয়ে এনসিপি সিলেট মহানগরের সদস্যসচিব কিবরিয়া সরওয়ার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। এটি তারাবিহ নামাজ শেষে ঘটে। সেখানে প্রচুর জেন-জি উপস্থিত ছিলেন। নেতাদের দেখে তাঁরাই স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরে সারজিস আলমও স্লোগান দেন। এতে দরগাহের ভাবগাম্ভীর্য বিনষ্ট হয়নি। অথচ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে।’
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো তর্ক-বিতর্ক চলতে দেখা যাচ্ছে। কেউ এটিকে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া বলছেন, আবার কেউ পবিত্র স্থানে রাজনৈতিক প্রদর্শনীর অভিযোগ তুলছেন।






