জুলাই আন্দোলনের দেড় বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও রাকসু নির্বাচনের আলোচিত ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব গুপ্তসংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবিরের আসল পরিচয়ে ফিরে এসেছেন। তিনি এবার নিজের রাজনৈতিক পরিচয় নিজেই ঘোষণা করে নিজেকে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের সক্রিয় কর্মী বলে স্বীকার করেছেন। জুলাই আন্দোলনের সময়ও তিনি শিবিরের সক্রিয় নেতা ও সমন্বয়ক ছিলেন বলেও স্বীকার করেন তিনি। উল্লেখ্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকেই তাকে ক্যাম্পাসের প্রগতিশীল রাজনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা গুপ্ত সংগঠন জামায়াত শিবিরের নেতা হিসেবে মেহেদী সজীবকে চিহ্নিত করে আসছিলেন।
সোমবার বিকেলে মেহেদি সজীব নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যাডে প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেন। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই ক্যাম্পাসজুড়ে তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর রাকসু নির্বাচনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক তিন সমন্বয়কের নেতৃত্বে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ নামে একটি প্যানেল ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩টি পদের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থী দেয় প্যানেলটি। এতে সহ সভাপতি (ভিপি) পদে সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী সজীব, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকিল বিন তালেবের নাম ঘোষণা করা হয়। এই তিনজনের সবাই ছাত্র শিবিরের গোপন শাখার সক্রিয় নেতা হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
এদিকে ওই সময় প্যানেল ঘোষণার পরপরই কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। ক্যাম্পাসে গুঞ্জন ছড়ায়, এটি ছাত্রশিবিরের ‘বি-টিম’ বা ‘ডামি প্যানেল’। তবে সে সময় ভিপি ও জিএস প্রার্থী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিন্তু এবার সজিব তার আসল পরিচয়ে ফিরলেন।
পরবর্তীতে এজিএস প্রার্থী আকিল বিন তালেব, মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রার্থী ফাহির আমিন এবং সহকারী মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রার্থী এম শামিম প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। নির্বাচনে জিএস পদে জয়ী হন সালাহউদ্দিন আম্মার। অন্যদিকে ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালেও প্রচারণায় তাকে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। আলোচিত প্রার্থীদের একজন হওয়া সত্ত্বেও ভোটের মাঠে তার নীরবতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।
তখন অভিযোগ ওঠে, শিবির-সমর্থিত ভিপি প্রার্থীকে সুবিধা দিতেই তিনি নির্বাচনে সক্রিয় ছিলেন না। সম্প্রতি তার রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নোমান ইমতিয়াজ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নতুন পদের জন্য শুভকামনা। পাশাপাশি সকলের ধারণাকে সত্য প্রমাণিত করার জন্য ধন্যবাদ।’
সাইফুর রহমান নামের এক সাবেক শিক্ষার্থী তার পোস্টে লিখেছেন, ‘হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে বেঈমানি করে আত্মপ্রকাশ করেছে ছোট ভাই মেহেদী সজীব। আরও কিছু ছোট ভাই আছে। একে একে সবাই সামনে আসবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেহেদী সজীব বলেন, আমি আগে থেকেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের আদর্শিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। জুলাই আন্দোলনের সময় থেকে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে কারণে তখন পরিচয় প্রকাশ করিনি। পরবর্তী সময়ে অনুকূল পরিবেশ না থাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এ সংক্রান্ত প্রশ্ন এড়িয়ে গেছি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন ব্যবস্থায় আমি আর গুপ্ত না থেকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক পরিচয়ে ফিরেছি।







