জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে আদালতে রায় এলে বর্তমান সরকার ও সংসদ বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, জনরায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক। আদালতে এই সনদকে চ্যালেঞ্জ করার মাধ্যমে বিএনপি নিজের সরকারকেই চ্যালেঞ্জ করল। এই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবিধানের ভিত্তিতে নির্বাচন হলে তা ২০২৯ সালে হওয়ার কথা। আদালতে যদি জুলাই সনদ এবং যে আদেশের ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছে– এসবের বিরুদ্ধে রায় আসে, তাহলে এই সরকার ও সংসদ বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আদালতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানাব বিএনপিকে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির নবগঠিত ‘সংস্কার বাস্তবায়ন বিষয়ক কমিটি’ এর আয়োজন করে।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানকে রক্ষা করার এক ধরনের যে পাঁয়তারা সেটা আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেখে আসছিলাম, সেটার ধারাবাহিকতাটাই এই বর্তমান সরকার রক্ষা করছে। সরকার পুনর্লিখনের জায়গা থেকে সরে এসে সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে নিজেদের পছন্দ মতো সংস্কার করতে চাইছে। ‘জনগণের সরকার গঠিত হলে এই সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে’– সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ছেলে আজকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁর দল আজকে সরকার গঠন করেছে। কিন্তু তাঁরা এই সংবিধান ছুড়ে ফেলার সাহস করতে পারছেন না। বরং এই সংবিধানকে রক্ষা করছেন। আমরা আমাদের জায়গা থেকে তাহলে বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়ার কথা অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনো জনগণের সরকার পায়নি। যেদিন আমাদের সরকার গঠিত হবে, যেদিন প্রকৃত জনগণের সরকার গঠিত হবে, সেদিন এই সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে।’ এ সময় সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘এই সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। কোনোভাবেই এই সংসদ রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে না। যদি তা হয়, জনগণের পক্ষ থেকে আমরা ৩০০ জন সংসদ সদস্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করব। সবাইকে এর জবাব দিতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপ–প্রধান সারোয়ার তুষার, সদস্য অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা, মনিরা শারমিন, সালেহ উদ্দিন সিফাত প্রমুখ।