তেরখাদা প্রতিনিধি :
স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তারপর থেকে একের পর এক সঠিক নেতৃত্বে এগিয়ে, ৪৭ বছরে পদার্পণ করেছে বিএনপি। বিএনপির প্রতি মানুষের অগাধ ভালোবাসা শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস রয়েছে।তাই আজ বিএনপি একটি প্রতিষ্ঠিত স্বনামধন্য গৌরবময় দল।১৯৭৮ সাল থেকে বিএনপির এই সোনালী অর্জনের অংশীদার, খুলনা এবং খুলনা-৪ এর সর্বস্তরের জনগণ। সুখে দুঃখে ৪৭ টি বছর খুলনা-৪ এর মানুষ রয়েছে বিএনপি’র সাথে। গত ১৭ টি বছর বিএনপি উপর তথা পুরো বাংলাদেশের উপর কালো মেঘ নামিয়ে এনেছিল স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার সরকার। সেই ১৭টি বছরও, আন্দোলন সংগ্রাম থেকে পিছপা হয়নি খুলনা-৪ এর জনগণ। প্রত্যেকটি নেতাকর্মী পালিয়ে পালিয়ে আন্দোলন সংগ্রামের ভিতর দিয়ে দলকে বাঁচিয়ে রেখেছে। ঘর ছাড়া, পরিবার হারা, সংসার ছাড়া, মানুষদের বুকে এইটুকু আশা নিয়ে যে, এই কালো মেঘ একদিন কেটে যাবে। এই স্বৈরাচারের পতন একদিন হবে। বিএনপি’র সকল নেতাকর্মীরা একদিন আলোর মুখ দেখবে। ৫ ই আগস্টে সেই রক্তক্ষয়ী এক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটে। বাংলাদেশের আকাশে এক নতুন সূর্যের উদয় হয়। বিএনপি’র সুদিন ফিরে আসে।কিন্তু খুলনা -৪ এর মানুষ সেই সোনালী আলোর ঝলমলে আভা থেকে রয়ে গেল অন্ধকারে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলাদেশে বড় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে খুলনা -৪ এ,রূপসা তেরখাদা দিঘলীয়ার বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন খুলনা- রূপসার কৃতি সন্তান সাবেক ছাত্রনেতা জননেতা জনাব আজিজুল বারী হেলাল। ১৯৮৮ সাল থেকেই যার ছাত্র রাজনীতি শুরু। নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি দলের বিভিন্ন পদের দায়িত্ব, সততা দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি,সহ-সভাপতি, যুগ্ন আহবায়ক, সহ তার রাজনৈতিক জীবনে রয়েছে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পদ পদবী। সর্বশেষ তিনি বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটা তো ছিল শুধু দায়িত্বের কথা, এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে সহ্য করতে হয়েছে, অসংখ্য মামলা নির্যাতন। আওয়ামী লীগের আমলে তিনি মোট ১১ বার কারাগারে গিয়েছেন। ২০০৭ সালে ফখরুদ্দিন সরকারের সময় প্রায় দেড় বছর কারাগারে ছিলেন। ৩৬ দিন ছিলেন রিমান্ডে। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫০টি মামলা দেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এত এত হামলা মামলা কারাবরণ শর্তে ও, আওয়ামী লীগ বা কোন সরকারই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনতে পারেননি। যেখানে বর্তমানে অনেক নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে, ঋণ খেলাপি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীর কালো দাগ। সে দিক থেকে আজিজুল বারি হেলালের নামে আজ পর্যন্ত কেউ একটি দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি। এত স্বচ্ছ ও ক্লিন ইমেজের মানুষকে তার দল কিভাবে মুল্যায়িত করলো? আজিজুল বারী হেলালের জনপ্রিয়তাকে যাচাইয়ের জন্য, বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, তার হাতে ধানের শীষের প্রতীক তুলে দেন। সেই প্রতীক ও দলকে ভালোবেসে রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া,তথা খুলনা-৪ অঞ্চলের মানুষ বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করেন আজিজুল বারী হেলাল কে। বিএনপি যে সম্পদ আজিজুল বারি হেলালের হাতে তুলে দিয়েছিলো, রুপসা তেরখাদা দিঘলিয়ার মানুষ, তার সম্মান সমুন্নত রেখেছে। বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে দেওয়া কথা রেখেছে, রুপসা তেরখাদা দিঘলিয়ার আপামর জনগণ। জয়ী করেছে ধানের শীষকে জয়ী করছে আজিজুল বারী হেলালকে। রুপসা তেরখাদা দিঘলিয়া তথা খুলনা-৪ এর মানুষের প্রাণের দাবি ছিল আজিজুল বারি হেলাল বিজয়ী হলে, ধানের শীষ বিজয় অর্জন করলে, বিএনপি আজিজুল বারি হেলালকে মন্ত্রিত্ব দিয়ে সম্মানিত করবেন।দীর্ঘ সময় পুরো খুলনা অবহেলিত, পায়নি কোনো মন্ত্রি বা প্রতিমন্ত্রীও। এবার জনগণ বুক ভরা আশা নিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়েছে, বিজয়ী করেছেন আজিজুল বারী হেলালকে। খুলনা -৪ এর মানুষের আশা ছিল হেলাল মন্ত্রিত্ব পাবে, খুলনাকে ঢেলে সাজাবে। অবহেলিত খুলনার উন্নয়ন হবে, জুট মিল গুলো আবার চালু হবে, আরো হবে দুধের হিমাগার, রপ্তানি যোগ্য সব্জির হিমাগার, অবহেলিত খুলনার খেটে খাওয়া মানুষেরা পাবে কর্মসংস্থান। খুলনা -৪ এর মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। বেকারত্ব ঘুচাবে।মানুষ কর্ম পেয়ে মাদক থেকে দূরে সরে যাবে। এ জাতি মাদকের করালগাছ থেকে বেঁচে যাবে। একটি সুখী সমৃদ্ধ খুলনা হবে। বাংলাদেশ বিনির্মাণে খুলনা- ৪ হবে একটি গর্বিত অংশীদার। কিন্তু বিধি বাম,নানা ষড়যন্ত্র আর অবহেলায় আজও অন্ধকারে রয়ে গেল খুলনা-৪।আজিজুল বারি হেলাল মন্ত্রিত্ব বঞ্চিত মানেই খুলনা-৪ মন্ত্রিত্ব বঞ্চিত। আজ সাধারণ মানুষের মনে শুধু একটাই প্রশ্ন, খুলনা -৪ এর এই অবহেলা ও বঞ্চনা কবে ঘুচবে? খুলনা -৪ এর মানুষ কি মন্ত্রিত্ব পাবে? আজিজুল বারি হেলাল কি মন্ত্রীত্ব পাবে? বিএনপি’র চেয়ারম্যান কি খুলনার মানুষের আশার বাতিঘর হবেন? নাকি খুলনা -৪ এর মানুষের ভাগ্যের দরজায় কেউ খিল দিয়ে রেখেছে, প্রশ্ন সাধারণ জনগণের?