সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ডোমেইন বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ব্রডব্যান্ড-২) জয়ীতা সেন রিম্পীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে মামলাটি করেন ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউএসইটি) উপদেষ্টা মুহা. তাজুল ইসলাম। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নিম্ন আদালতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মামলার বাদী তাজুল ইসলাম।
মামলায় মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডোমেইন) মোস্তফা আল মাহমুদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ডোমেইন) আবীর কল্যাণ আবেদীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-২) মো. শাহ আলম সিরাজ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান মাসুদকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএসইটি) কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ওয়েবসাইট www.uset.ac.bdএবং www.uset.edu.bd পরিচালনা করে। এডমিন প্যানেলের পাসওয়ার্ড যেন কাউকে দেওয়া না হয়, এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল বিটিসিএলকে এক পত্রের মাধ্যমে অনুরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ডোমেইন বিষয়ে আপত্তি এসেছে জানিয়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর একটি পত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। এতে অভিযোগ শুনানি বাবদ ২৩ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কাগজপত্র ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। ৩০ নভেম্বর ২৩ হাজার টাকার পে-অর্ডারসহ কাগজপত্র জমা দিতে গেলে তা গ্রহণ না করে ফেরত দেওয়া হয়। অজুহাত হিসেবে জানানো হয়, ডিমান্ড নোট অনুযায়ী ২৭ নভেম্বর টাকা জমা দেওয়ার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিদের নিরপেক্ষতার ঘাটতি ও ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় তাদের দুরভিসন্ধিমূলক কার্যকলাপের প্রতিকার চেয়ে এবং ডোমেইন বন্ধ না করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে তাজুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর জয়ীতা সেন রিম্পীর কক্ষে গিয়ে কথা বলতে চান। এ সময় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে গালিগালাজ করেন, কটু কথা বলেন এবং বিটিসিএলের বারান্দায় আর যেন কোনও দিন দেখা না যায়—এমন হুমকি দেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। তিনি হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশনের ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট গ্রহণ করেননি এবং আবেদন গ্রহণ শাখার কর্মচারীকেও আবেদন গ্রহণ না করার নির্দেশ দেন।
মামলায় আরও বলা হয়, ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট গ্রহণ না করা এবং দাপ্তরিক কাজে অসহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করে গত ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর গত ১১ জানুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ডোমেইন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।