বহিরাগত চাপ ও ধারাবাহিক হামলার মুখেও ইরান ভেঙে পড়েনি, বরং আগের চেয়ে আরও দৃঢ় ও শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির জনগণ এখন অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চিত্র অনেকটাই ১৯৮০ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, যখন ভাঙার বদলে ইরান আরও বেশি একত্রিত হয়েছিল। ইরানে ইসরায়েল-আমেরিকার আকস্মিক হামলা ও পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্য। এক মাসের বেশি পেরিয়ে গেলেও নেই থামার কোনো লক্ষণ। এ পরিস্থিতিতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে, তেমনি ইরানে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে জনগণ আগের চেয়ে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই ১৯৮০ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তাদের মতে, সে সময় ইরাকের নেতা সাদ্দাম হুসেইন মনে করেছিলেন, ইরানে হামলা চালালে জনগণ সরকারবিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টোটি ঘটেছিল। ইরানের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের পক্ষে একত্রিত হয়। বর্তমান যুদ্ধেও একই ধরনের হিসাব করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হামলার পাশাপাশি ইরানি জনগণকে বিদ্রোহে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবতা এবারও ভিন্ন।
আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইসরায়েল-আমেরিকার হামলায় আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে সাধারণ ইরানিরা। ফলে তারা এখন তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একসঙ্গে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন কমিয়ে জাতীয়তাবাদকে আরও শক্তিশালী করছে। একইসঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে ভুল ধারণাও সামনে এসেছে।
শুধু শীর্ষ নেতৃত্বকে সরালেই সরকার ভেঙে পড়বে, সে ধারণাও এখন অনেকটাই ধুলিস্যাৎ। কারণ, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো বহুস্তরবিশিষ্ট, সুসংগঠিত এবং যথেষ্ট দৃঢ়।






