ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে উঠেছে, ফলে বাসিন্দারা দৈনন্দিন রান্না ও অন্যান্য কাজের জন্য চরম সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। সোমবার ঢাকার মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, বসিলা, বনশ্রী ও লালবাগসহ অধিকাংশ এলাকায় দোকানগুলোতে এলপিজি সংকট দেখা দিয়েছে।
বাসিন্দারা বলছেন, গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহ তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। অনেক পরিবারকে প্রতিদিন একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, কখন কোথায় সিলিন্ডার পাওয়া যাবে সেটা নিয়েই সকাল শুরু হচ্ছে। রান্নার সময় ঠিক রাখা যায় না, শিশু ও বৃদ্ধদের খাদ্য ব্যবস্থা কঠিন হয়ে পড়েছে, এবং পরিবারের বার্ষিক বাজেটেও নতুন চাপ এসেছে। অনেকেই সারাদিন গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করেন, আবার কিছু পরিবার রাতে বা ভোরে আগুন জ্বালিয়ে রান্না করেন কারণ দিনের বেলায় চাপ থাকে না বা আসে না। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি অনেক পরিবারকে তাদের নিত্যদিনের রুটিন পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় বর্তমানে ১২ কেজির সিলিন্ডার মাসে প্রায় ১,২১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি সরকারের, যদিও বাজারের চিত্র ভিন্ন। এর সাথে গ্রাহককে গুণতে হয় পরিবহন খরচও। তাই বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। অনেক দোকান অনিয়মিতভাবে ১,৫০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি করছে, যা সাধারণ মানুষের খরচ এবং ভোগান্তি দুটোই বাড়িয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গ্যাস লাইনের চাপ প্রায় নেমে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক বাসিন্দা বলছেন দিনভর গ্যাস পাওয়া যায় না, রাতে চাপ বাড়লেও রান্নার সময় হয়ে যায় না, ফলে তারা বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎচালিত স্টোভ বা কেরোসিনেও নির্ভর করছে। অনেকে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জীবিকার উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলেছে।
সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করছেন আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামা এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চ্যালেঞ্জের কারণে এলপিজি বাজারে কিছু দফা দাম সংশোধন করতে হয়েছে।