1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি পেলেন সুন্দরবনের অপহৃত ১৮ জেলে

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ২৫ সময় দর্শন
স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক

সুন্দরবনে জলদস্যুদের জিম্মি দশা থেকে ৭ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি পেল অপহৃত ১৮ জেলে। এখনো নিখোঁজ আছে আরও ২ জেলে। ১২ই মে, সোমবার বিকেল পর্যন্ত ধাপে ধাপে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পাওয়া জেলে-মৌয়ালরা ধাপে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। তবে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পরও এখনও মুক্তি মেলেনি দুই জেলের। ফলে নিখোঁজ দু’জনকে ঘিরে তাদের পরিবারে বিরাজ করছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।

ফিরে আসা জেলে ও মৌয়ালদের ভাষ্য, গত ৪ ও ৫ই মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই/ডন বাহিনী’র পরিচয়ে অস্ত্রধারী দস্যুরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর গোয়াল বুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালীর খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল এবং মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাদের মহাজন, সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

অপহৃতদের মহাজন ও তাদের স্বজনরা জানান, দস্যুদের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে দাবিকৃত মুক্তিপণ থেকে কিছু টাকা কমিয়ে সমঝোতা করা হয়। পরে নির্ধারিত বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর পর একে একে জেলে ও মৌয়ালদের ছেড়ে দেয় বনদস্যুরা।

জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া বনজীবী মুরশিদ আলম ৭০ হাজার, করিম শেখ ১ লাখ ২০ হাজার, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মন্ডল ২০ হাজার, আব্দুল সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামে দুই জেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে বনদস্যুদের বিকাশ নম্বরে পাঠানো হলেও তারা এখনও বাড়ি ফেরেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তাদের পরিবারে বিরাজ করছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।

এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান বলেন, জলদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। তবে অপহৃতদের পরিবার বা সহযোগীরা বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সঠিকভাবে আমাদের যথাযথ সহযোগিতা না করার কারণে আমাদেরকে দস্য দমনে বেগ পেতে হচ্ছে। তারা সহযোগিতা করলে আমরা সুন্দরবনের দস্যু দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারি।

সহযোগিতা না করার প্রসঙ্গে জেলে ও মৌয়ালদের স্বজনরা জানান, পুলিশের সহযোগিতা চাইলে বা তাদেরকে তথ্য দিলে অপহৃতদের ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়বে। পুলিশের ভেতর থেকেই খবর চলে যাবে জলদস্যুদের কাছে। তখন অপহৃতদের খুন করে সুন্দরবনের কাদার ভেতরে লাশ গুম করে ফেলবে।

ফিরে আসা জেলে ও মৌয়ালরা তাদের পরিবারের সদস্যরা সুন্দরবনে জলদস্যুদের দৌরাত্ম বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার ও নিয়মিত টহল বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host