1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ন

প্রেমে পরাজয়, তবু রূপে বিশ্বজয়

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৬ সময় দর্শন
মধুবালা

 বিনোদন ডেস্ক

ব্যক্তিজীবনে অপূর্ণ প্রেম, অপপ্রচার আর মানসিক লড়াই—সব মিলিয়ে বলিউড ইতিহাসের এক ট্র্যাজিক আইকনের নাম মধুবালা। ১৯৩৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে জন্মেছিলেন মমতাজ জাহান দেহলভী নামে। পরে কিংবদন্তি অভিনেত্রী দেবিকা রাণী-ই তাঁর নাম রাখেন ‘মধুবালা’। অতুলনীয় সৌন্দর্যের জন্য ভক্তরা তাঁকে তুলনা করতেন প্রেমের দেবী ভেনাসের সঙ্গে।

শিশুশিল্পী থেকে কিংবদন্তি

শৈশবেই অভিনয়ে হাতেখড়ি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ নীল কমল ছবিতে, বিপরীতে ছিলেন রাজ কাপুর। এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৬৬টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—মুঘল-এ-আজম, মহল, চলতি কা নাম গাড়ি, মিস্টার অ্যান্ড মিসেস ৫৫ ইত্যাদি। তবে অভিনয়ের চেয়ে তাঁর সৌন্দর্য নিয়েই আলোচনা হতো বেশি—যা একদিকে আশীর্বাদ, অন্যদিকে অভিশাপও হয়ে দাঁড়ায়।

প্রেম বনাম পরিবার

১৯৫১ সালে ‘তারানা’ ছবির শুটিংয়ে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় দিলীপ কুমার-এর সঙ্গে। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, এমনকি বিয়ের সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান মধুবালার বাবা। শেষ পর্যন্ত দিলীপ কুমারের দেওয়া দুটি শর্ত—পরিবার ত্যাগ ও অভিনয় ছেড়ে দেওয়া, সম্পর্ককে ভেঙে দেয়। অভিনয় ছাড়তে প্রস্তুত থাকলেও পরিবার ছাড়তে রাজি হননি মধুবালা। সেই সিদ্ধান্তই হয়তো তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন মোড়— যেখানে জয়ী হয় পরিবার, আর হারিয়ে যায় প্রেম। পরে তিনি বিয়ে করেন কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমার-কে। তাদের পরিচয় হয়েছিল ‘চলতি কা নাম গাড়ি’-র সেটে।

সাফল্যের আড়ালে অপপ্রচার

আজকের মতো তখনও তারকাদের ঘিরে ছিল ইমেজ–রাজনীতি। যেমন এখন অমিতাভ বচ্চন বা শাহরুখ খান-দের ঘিরে আলোচনা দেখা যায়, তার শিকড় ছিল সেই ১৯৪০-এর দশকেই। পরিচালক কিদার শর্মা তাঁর অভিনয় দেখে বলেছিলেন— রাজ কাপুরের চেয়েও এগিয়ে তিনি। বড় সাফল্য আসে কমল আমরোহি পরিচালিত ‘মহল’ ছবিতে, সহ-অভিনেতা ছিলেন অশোক কুমার। তবে কয়েকটি ছবি না চলতেই তাঁকে বলা শুরু হয় “বক্স অফিস পয়জন”। পরে অসুস্থতার কারণে শুটিংয়ে একটি দৃশ্য করতে অস্বীকৃতি জানানো নিয়েও ছড়ায় বিকৃত প্রচার। পরিস্থিতি এতটাই তীব্র হয় যে সংবাদমাধ্যমকে শুটিং সেটে নিষিদ্ধ করেন তিনি। মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন। এমনকি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোরারজি দেশাই-এর উদ্যোগে তাঁকে দেওয়া হয় লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিভলভার ও সশস্ত্র নিরাপত্তা— যা সে সময় ছিল নজিরবিহীন।

অকালে বিদায়

জন্মগত হৃদরোগের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মাত্র ৩৬ বছর বয়সে, ১৯৬৯ সালে না ফেরার দেশে চলে যান মধুবালা। তিনি রেখে গেছেন রূপের বিস্ময়, অপূর্ণ প্রেমের বেদনা, অপপ্রচারের ক্ষত—আর এক কিংবদন্তি হয়ে ওঠার অনন্ত ইতিহাস। এই তারকার জীবন যেন শেষ পর্যন্ত এক প্রশ্নই ছুড়ে দেয়—প্রেমের চেয়ে কি পরিবার বড়? নাকি এ দুয়ের মাঝেই হারিয়ে যায় একজন মানুষের নিজের গল্প?

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host