বিশেষ প্রতিনিধি
হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় গোপালগঞ্জে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এসব শিশু ওই ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। শুক্রবার দুপুর ১টা পর্যন্ত আইসোলেশন ওয়ার্ডের ২০ বেডে হামের উপসর্গে ১৯ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরমধ্যে ১৮টি শিশু ওয়ার্ডে ও ১টি শিশু কেবিনে রয়েছে। গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের হাসপাতাল থেকে ৩৫ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। এমধ্যে ৮টি নমুনার রিপোর্ট আমরা হাতে পেয়েছি। এ রিপোর্টে ৬ শিশুর দেহে হাম সনাক্ত হয়েছে। হাম শনাক্ত শিশুরা সুস্থ রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ৯ মাসের শিশু জান্নাতী ইসলামের মা রহিমা খানম বলেন, আমাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝিগাতি গ্রামে। গত রোববার সন্ধ্যায় আমার মেয়ের শরীরের জ্বর নিয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসি। ওই দিন রাত ২টার দিকে মেডিকেল কলেজ থেকে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। ভর্তির পরের দিন মেয়ের শরীরে সামান্য দানা-দানা দেখা দেয়। পরে এটি লাল রং ধারণ করে বাড়তে থাকে। টানা ৫ দিনের চিকিৎসায় সব কমে গেছে। এখন কাশি আছে। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ৭ মাসের শিশু আরশি আক্তার। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া গ্রামে। ওই শিশুর মা সোনালী বেগম বলেন, প্রথম জ্বর নিয়ে মেয়েকে ৬ এপ্রিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি করি। পরে মুখে লাল র্যাস দেখা দেয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৮ এপ্রিল আমার মেয়েকে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। এখানে চিকিৎসায় তার উন্নতি হচ্ছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে হামের উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে ১৪ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরমধ্যে ৫ রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। এখনো ওইসব নমুনার রেজাল্ট আসেনি বলে জানিয়েছেন ওই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ওয়ার্ডে হাম উপসর্গে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসায় আধুনিক সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।